গর্ভাবস্থায় আম খাওয়ার উপকারিতা, স্বাস্থ্য ঝুঁকি ও অন্যান্য


চলছে গ্রীষ্মকাল। আর ইতিমধ্যে বাজারে রাজত্ব করতে শুরু করেছে কাঁচা আম। আর কিছুদিন পরে পাকা আমের মৌ মৌ সুবাসে বিমোহিত হবে বাজারের ফলের কর্ণার। আমকে বলা হয় ফলের রাজা। ছোট বড় সবাই আম ভালবাসে কারণ আম খুব সুস্বাদু ফল। গর্ভবতী মায়েরা আম ভালবাসেন। কারণ আমের টক মিষ্টি স্বাদ তাদের ভালো লাগে। আপনি যদি গর্ভবতী হন তাহলে আম খাওয়ার উপকারিতা ও অপকারিতা সম্পর্কে জেনে আম খাবেন। অতিরিক্ত আম খেলে সন্তানের কী ক্ষতি হতে পারে, গর্ভকালীন সময়ে আম খাওয়া যায় কিনা ইত্যাদি বিভিন্ন বিষয় নিয়ে এই নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করা হল।

গর্ভকালীন সময়ে আম খাওয়া কি নিরাপদ?

হ্যাঁ, গর্ভকালীন সময়ে আম খাওয়া যায়। আমকে বলা হয় অনেক শক্তির উৎস। এছাড়া আমে রয়েছে বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান, অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। তবে নির্দিষ্ট পরিমাণে আম খাওয়া উচিত। অতিরিক্ত কোন কিছু খাওয়া ভালো নয়। তাছাড়া আম হলো ঋতুকালীন ফল। ঋতুকালীন ফলগুলো শরীরে জমা থাকে, প্রয়োজনানুযায়ী কাজে ব্যবহৃত হয়।

গর্ভকালীন সময়ে কী পরিমাণ আম খাওয়া উচিত?

ছবিসূত্রঃ Kaboutjie

প্রতিদিন একটির বেশি আম খাওয়া উচিত নয়। চিকিৎসকের পরামর্শানুযায়ী আম খাবেন। চিকিৎসক যদি বলেন, ক্যালরিযুক্ত খাবার বেশি খেতে তাহলে আপনি যদি আমকে বেছে নেন, ১০০ গ্রাম আম থেকে চিনি পাবেন ৩৩.৬৬ গ্রাম। যা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তবে চিনি ছাড়াও আমে অন্যান্য পুষ্টি উপাদান আছে যা গর্ভবতী মায়ের জন্য উপকারী।

আমের পুষ্টি উপাদান

১০০ গ্রাম পাকা আমে যেসব পুষ্টি উপাদান যে পরিমাণে আছে তা নিচে দেওয়া হলো।

ছবিসূত্রঃ momjunction.com
ছবিসূত্রঃ momjunction.com
ছবিসূত্রঃ momjunction.com

গর্ভকালে আম খাওয়ার উপকারিতা

গর্ভকালীন সময়ে আম খাওয়ার স্বাস্থ্য উপকারিতা সম্পর্কে নিচে দেওয়া হলো।

আয়রন রক্তস্বল্পতা থেকে রক্ষা করে

ছবিসূত্রঃ easyhealthoptions.com

আমে বিদ্যমান অনেক পুষ্টি উপাদানের মধ্যে আয়রন অন্যতম। আমে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। লৌহ, ভিটামিন সি ইত্যাদি উপাদানগুলো থাকার কারণে গর্ভমতী মায়ের রক্তস্বল্পতা হয়না। গর্ভবতী মায়ের জন্য রক্তস্বল্পতা খুব ভয়ানক। তাই গর্ভাবস্থায় আম খাওয়া ভালো।

ফলিক এসিড ভ্রুণ উন্নয়নে সহায়তা করে

আম খেলে গর্ভবতী মায়ের ফলিক এসিডের চাহিদা পূরণ হয়। ফলিক এসিড শিশুর মেরুদন্ড, ভ্রূণ বৃদ্ধি ও ভ্রুণের উন্নয়নে সহায়তা করে। গর্ভবতী মায়ের জন্য আম খাওয়া খুব জরুরী।

আমে বিদ্যমান ফাইবার হজমে সহায়তা করে

আমে প্রচুর আঁশ অর্থাৎ ফাইবার বিদ্যমান। আম খেলে স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। গর্ভাবস্থায় আম খেলে গর্ভবতী মায়ের স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। সেই সাথে মায়ের হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক থাকে। আম খেলে কৌষ্ঠকাঠিন্য দূর হয়।

প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সরবরাহ করে

মোটামুটি সব ফলে কম বা বেশি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। তবে আমে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের পরিমাণ বেশি। আম খেলে মায়ের শরীরের জন্য ভালো। প্রচুর শক্তি পাওয়া যায় আম থেকে।

ছবিসূত্রঃ Mother Care

বিভিন্ন ক্ষতিকর মৌলের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করে তুলতে সাহায্য করে আমে থাকা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। গর্ভপাত কিংবা ভ্রুণের ক্ষতি সংক্রান্ত বড় বড় দূর্ঘটনা থেকে রক্ষা করে আম। বাচ্চা যেন অপরিপক্ক না হয়ে পরিপক্ক হয়, সেদিকে সাহায্য করে আম।

আমে রয়েছে ভিটামিন এ যা শিশুর উন্নয়নে সাহায্য করে

আমে থাকা ভিটামিন এ শিশুর উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা রাখে। বাচ্চার হাড় ও দাঁত গঠনে সাহায্য করে ভিটামিন এ। এছাড়া চোখের জন্য ভিটামিন এ খুব জরুরী। হৃদরোগ, ফুসফুস ও কিডনি উন্নয়নে সাহায্য করে ভিটামিন এ।

ভ্রুণ, মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের জন্য ভিটামিন বি৬

আম খেলে একজন গর্ভবতী মা প্রচুর ভিটামিন বি-৬ পায় যা শিশুর ভ্রুণ ও মস্তিষ্কের জন্য খুব উপকারী। স্নায়ুতন্ত্রের উন্নয়নের জন্যও সাহায্য করে ভিটামিন বি৬।

ম্যাগনেসিয়াম প্রিক্যালম্পসিয়া দূর করে

আমে পর্যাপ্ত ম্যাগনেসিয়াম রয়েছে যা প্রিক্যালম্পসিয়া দূর করে। আম খেলে প্রাকৃতিক ভাবে প্রিক্যালম্পসিয়া দূর হয়।

অসুস্থতা রোধ করে

ছবিসূত্রঃ HerHaleness

আমে বিদ্যমান ভিটামিন ভি-৬ বমি বমি ভাব দূর করে এবং অসুস্থতা দূর করে।

শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে

গর্ভকালীন সময়ে শরীরে প্রচুর তরলের প্রয়োজন হয়। অতিরিক্ত মিনারেল, ক্যালসিয়াম, পটাশিয়াম ও সোডিয়ামের প্রয়োজন হয়। সব ধরনের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে এবং শরীরে তরলের ভারসাম্য বজায় রাখে আম।

গর্ভাবস্থায় আম খেলে কোনো পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়?

গর্ভাবস্থায় আম খেলে যেসব পার্শ্ব প্রতিক্রিয়া দেখা যায় তা নিচে দেয়া হলো।

ডায়রিয়া

গর্ভাবস্থায় অতিরিক্ত আম খেলে ডায়রিয়া হয়। ডায়রিয়া হলে পানি শূন্যতা দেখা দেয়। গর্ভাবস্থায় যেকোনো সময় পানি শূন্যতা দেখা দিতে পারে। এমতাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ গ্রহণ করতে হবে।

ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়ায়

আমে প্রচুর চিনি থাকার কারণে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। অতিরিক্ত আম না খেয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে আম খেলে এই ধরনের সমস্যায় ভুগতে হয়না।

ওজন বৃদ্ধি

অতিরিক্ত আম খেলে গর্ভাবস্থায় মায়ের অতিরিক্ত ওজন বেড়ে যায়। কারণ আমে শর্করা ও স্টার্চ থাকে বেশি।

এলার্জি জনিত সমস্যা

অনেকের বিভিন্ন ফলে এলার্জি থাকে। আপনার যদি আমে এলার্জি থাকে তাহলে আম বর্জন করুন।

কৃত্রিমভাবে পাকানো আমের ঝুঁকি

কৃত্রিম ভাবে যদি কাঁচা আমকে পাকানো হয়, সেই আম মা খেলে মা ও শিশু উভয়ের মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। কারণ কৃত্রিমভাবে আম পাকানো হলে তাতে বিষাক্ত পদার্থ মেশানো হয়।

আম খাওয়ার জন্য কিছু নিরাপদমূলক ব্যবস্থা

পুরো আমকে ভালোভাবে ধুয়ে নিন

বাসায় আম আনলে তা খাওয়ার পূর্বে ভালো করে ধুয়ে নিন।

আমের খোসা ছাড়িয়ে নিন

ছবিসূত্রঃ istockphoto.com

আমের খোসা খাবেন না। আম খাওয়ার আগে খোসা ছাড়িয়ে আম খান। খোসা ছাড়িয়ে নিলে কৃত্রিমভাবে মেশানো পদার্থ দূর হয়ে যাবে।

স্বাস্থ্যবিধি বজায় রাখুন

আম কাটার পূর্বে চাকু বা ছুরি, দা ভালো করে ধুয়ে নিন। খাওয়ার আগে হাত ধুয়ে নিন ভালো করে।

বাসায় আম পাকানোর ব্যবস্থা করুন

আমের সঠিক পুষ্টি পেতে হলে কাঁচা আম বাজার থেকে কিনে এনে বাসায় পাকানোর ব্যবস্থা করুন।

 

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগে অধ্যয়নরত । রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসে। নিয়মিত লিখে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: গর্ভবতী মায়ের যত্ন

DON'T MISS