প্রথমবার গর্ভবতী হলে যে বিষয়গুলো জানা জরুরী


যেকোনো দম্পতির জন্য সন্তান হলো আশীর্বাদ। মায়ের কোলজুড়ে যখন নতুন শিশুর জন্ম হয় তখন পরিবারের সকলের খুশির সীমা থাকে না। একজন মা যখন প্রথমবার বুঝতে পারেন যে, তিনি মা হতে যাচ্ছেন, তখন তিনি হয়ে যান পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ। আগত সন্তানকে নিয়ে মনের গভীরে নানা স্বপ্ন সাজাতে ব্যস্ত হয়ে যান মা। সন্তান কেমন হবে, ছেলে নাকি মেয়ে হবে তা নিয়ে জল্পনা কল্পনার শেষ থাকে না। সন্তান হবার পর জামা, কাপড়, কাঁথার প্রয়োজন হবে বলে আগে থেকে কাঁথা, ছোট ছোট জামা ও জামাকাপড় তৈরি করে রাখেন। বাবা এবং মা দুজনে খুব আনন্দে থাকেন।

প্রথমবার গর্ভবতী হলে কিছু দিকনির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। এই দিকনির্দেশনা নিয়ে দুটি পর্বে আলোচনা করবো। শুধু প্রথমবার নয় প্রতিবার গর্ভবতী হলে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয় মাথায় রাখা জরুরী। নিম্নে তার প্রথম পর্ব আলোচনা করা হলো।

আপনি সত্যিই গর্ভবতী হয়েছেন কিনা সে সম্পর্কে নিশ্চিত হোন

ছবিসূত্রঃ A 2 Z InfoBank

কখনো কখনো প্রেগন্যান্সির রিপোর্ট ভুল আসে। তাই আপনি গর্ভবতী হয়েছেন কিনা তা সম্পর্কে নিশ্চিত হন। বাসায় বসে প্রেগন্যান্সি টেস্টের জন্য যে পদ্ধতি অবলম্বন করা হয় সে পদ্ধতি অবলম্বন করতে পারেন। চিকিৎসকের কাছে গিয়ে পরীক্ষা করিয়ে নিশ্চিত হতে পারেন। অথবা শারীরিক কিছু উপসর্গ দেখেও বুঝে নিতে পারেন আপনি গর্ভধারণ করেছেন কিনা ঝতুুুস্রাব না হওয়া, হঠাত করে মনোভাব পরিবর্তন হয়ে যাওয়া, পিঠে ব্যথা, টক জাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি তৈরি হওয়া ইত্যাদি।

প্রসবোত্তর যত্নের জন্য চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়া

ছবিসূত্রঃ opqic.org

অনেক দম্পতি প্রেগন্যান্সির পরিকল্পনাকাল থেকে চিকিৎসকের সাথে মাসে একবার দেখা করেন। আপনি যখন নিশ্চিত হবেন আপনি গর্ভবতী তখন থেকে নিয়মিত ডাক্তারের সান্নিধ্যে থাকুন। এই সময়ে অনেক সাবধানে চলাফেরা করতে হয়। খাওয়া দাওয়ার ব্যাপারে সতর্ক হতে হয়। চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে চললে আপনার এবং আপনার সন্তানের কোনো ক্ষতি হবে না। নয়তো কোনো একটি ভুলের কারণে আপনি অথবা আপনার সন্তান কিংবা উভয়েরই ক্ষতি হতে পারে।এই সময় প্রতিমাসে ভালো গাইনোকোলোজিস্ট দেখানো দরকার। এই ব্যাপারে কখনো অবহেলা করবেন না।

পারিবারিক চিকিৎসার ইতিহাস জানা

আপনার গর্ভকালীন অবস্থায় পারিবারিক চিকিৎসার ইতিহাস জানা জরুরী। আপনার ফুপু, দাদীদের সময়ে গর্ভবতী হলে কোনো সমস্যা হতো কিনা, কোন সমস্যার সমাধান কিভাবে করতে হবে ইত্যাদি সম্পর্কে জেনে নেওয়া ভালো। পারিবারিক বা বংশীয় কোনো সমস্যা থাকলে তা আগে থেকে চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করলে রোধ করা যাবে।

টিকা খুব গুরুত্বপূর্ণ

গর্ভাবস্থায় ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা গ্রহণ করতে হবে। টিকা দিলে শিশুকে ধনুষ্টাংকার, ফ্লু সহ বিভিন্ন রোগের হাত থেকে রক্ষা করা যাবে। এমনকি গর্ভাবস্থায় আপনারও কোনো সমস্যা হবে না। এই টিকাগুলো দিলে সহজে আপনি দূর্বল হবেন না, শারীরিক ও মানসিকভাবে উপকৃত হবেন। তাই গর্ভাবস্থায় চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী টিকা দিন। নতুবা শিশু শারীরিক অসুস্থতা নিয়েই জন্মাবে। কারণ গর্ভাবস্থায় মায়ের স্বাস্থ্যের প্রভাব শিশুর উপর পড়ে।

ছবিসূত্রঃ Echonetdaily

গর্ভাবস্থায় আপনি যদি হেপাটাইটিস বি, যক্ষ্মা, রুবেলা, অন্যান্য রোগে আক্রান্ত হন তাহলে জন্ম থেকেই শিশু ঐসব রোগে আক্রান্ত হবে এবং রোগ নিয়েই শিশুর জন্ম হবে। তাই হেপাটাইসিস বি, এ, টিটেনাস, নিউমোকোক্কাল, ডিপথেরিয়া, হুপিং কাশি ইত্যাদি রোগ প্রতিরোধের টীকা দিন গর্ভাবস্থায়।

গর্ভাবস্থার দিন হিসাব করুন

গর্ভকালীন দিনগুলোর হিসাব রাখা জরুরী। গর্ভাবস্থা ৩টি ভাগে বিভক্ত যেমন ৩+৩+৩=৯ মাস। প্রথম তিন মাসে হরমোনগত পরিবর্তন, বিপাকীয় পরিবর্তন, রক্তাচাপ জনিত সমস্যা ইত্যাদি হতে পারে। গর্ভাবস্থার দিনগুলোর হিসাব করা এবং কবে ডেলিভারি হবে তা জানা জরুরী। বিশেষ করে ঋতুস্রাব চক্রের শেষ চক্রে ডেলিভারির তারিখ পড়ে। ৩৭-৪০ সপ্তাহের মধ্যে সাধারণত ডেলিভারি করানো যায়।

গর্ভাবস্থায় রক্তপাত ঘটতে পারে

কখনো কখনো গর্ভাবস্থায় রক্তপাত ঘটতে পারে। এই ধরনের রক্তপাতে শঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। চিকিৎসকের সাথে পরামর্শ করলে সমাধান পাওয়া যাবে।

গর্ভাবস্থায় স্বাভাবিকভাবে ওজন যত হওয়া দরকার

গর্ভাবস্থায় ওজন কত হওয়া দরকার তা নির্ভর করে আপনার বর্তমান ওজনের উপর। আপনার ওজন যদি প্রয়োজনের অতিরিক্ত হয় তাহলে অল্প পরিমাণে ক্যালরি ও অন্যান্য পুষ্টি উপাদান গ্রহণ করুন।

ছবিসূত্রঃ mamaplus.md

আপনার ওজন যদি অল্প হয়, দেহে ভিটামিন, ক্যালরি, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি থাকে তাহলে অধিক পরিমাণে খাবার খান। সঠিক পরিমাণের খাবার খেলে আপনার গর্ভের শিশু পুষ্টি পাবে। প্রয়োজনের অতিরিক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকুন। অতিরিক্ত খাবার কখনো কখনো ক্ষতির কারণ হয়।

যেসব খাবার খাওয়া যাবে, যেসব খাবার খাওয়া যাবে না

ভিটামিন ও পরিপূরক খাবারের পাশাপাশি আপনাকে খেতে হবে সুষম খাবার, পুষ্টিকর খাবার এবং প্রয়োজনীয় পথ্য। সাধারণত চিকিৎসক আপনাকে আপনার শারীরিক প্রয়োজন অনুযায়ী ডায়েট চার্ট দিয়ে দিবে। ক্যাফেইন, অ্যালকোহল ইত্যাদি থেকে বিরত থাকতে হবে। অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন পান করলে বাচ্চার জন্মগত অক্ষমতা, সঠিক সময়ের পূর্বে ডেলিভারি হবে এবং বাচ্চা কম ওজনের হবে।

শারীরিক কাজ করতে হবে অবশ্যই

ছবিসূত্রঃ Parents Magazine

সন্তান জন্ম দেয়া নিঃসন্দেহে একটি বড় কাজ। সন্তান জন্ম দিলে শরীরের উপর বড় ধরণের প্রভাব পড়ে। গর্ভাবস্থায় শারীরিক ব্যায়াম, হাঁটাচলা প্রয়োজন। সারাদিন শুয়ে বসে না থেকে ছোট ছোট কাজ করা যেতে পারে। শারীরিক ব্যায়াম, হাঁটাচলা করলে অস্বস্থি থেকে মুক্তি পাবেন এবং গর্ভকালীন ব্যথা থেকে মুক্তি পাবেন। আপনি সঠিক উপায়ে চললে আপনার গর্ভের শিশুর উন্নয়ন হবে। ছোট ছোট কাজ করলে ক্ষতি হবেনা। তবে ভারী কোনো কাজ করা যাবে না।

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসেন। নিয়মিত লিখছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: গর্ভবতী মায়ের যত্ন

DON'T MISS