সপ্তাহ অনুযায়ী ভ্রূণের শারীরিক ক্রমবিকাশ (২১-৪০ সপ্তাহ)


২১তম সপ্তাহ

এসময়ে ভ্রূণের নড়াচড়া বৃদ্ধি পায় এবং আগের চেয়ে প্রবল হয়। এসময় আল্ট্রাসোনোগ্রামের ছবিতে আরো স্পষ্টভাবে শিশুর অঙ্গসমূহের ছবি পাওয়া যায়। এমনকি তার হৃৎপিণ্ডের আলাদা প্রকোষ্ঠগুলোও বুঝতে পারা সম্ভব। ভ্রূণের আকার হয় একটা গাজরের সমান ( প্রায় সাড়ে ১০ ইঞ্চি) আর ওজন প্রায় ৩৫০ গ্রাম।

সূত্র: Baby Center.com

২২তম সপ্তাহ

এ সময়ে ভ্রূণের ঠোঁট, চোখের পাতা, ভ্রূ আরও স্পষ্ট হয়।

২৩তম সপ্তাহ

এসময়ে ভ্রূণের শ্রবণ ক্ষমতা আরো বৃদ্ধি পায়। ভ্রূণ শিশু তার মায়ের কণ্ঠ চিনতে পারে। এসময় ভ্রূণের আকার হয় একটা ফজলি আমের সমান।

২৪তম সপ্তাহ

২৪তম সপ্তাহেও ভ্রূণের ত্বক পাতলা আর স্বচ্ছ থাকে। তবে ধীরে ধীরে তা বর্ণ লাভ করতে শুরু করবে শীঘ্রই। এসময় ভ্রূণের আকার হয় একটা ভুট্টার সমান (প্রায় সাড়ে ১১ ইঞ্চি) আর ওজন প্রায় ৬০০ গ্রাম।

২৫তম সপ্তাহ

এসময়ে ভ্রূণের পাতলা ও কুঞ্চিত চামড়া ধীরে ধীরে স্পষ্ট ও সুন্দর হয়ে উঠতে থাকে। মাথায় হালকা চুল দেখা যায়।

২৬তম সপ্তাহ

এসময়ে ভ্রূণ শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে অ্যামিনিওটিক তরল (মায়ের গর্ভস্থ তরল) গ্রহণ ও বর্জন করে যা তার ফুসফুসকে আরো সচল করে। ভ্রূণের শ্রবণশক্তি উন্নত হয়। মা যদি এই সময়ে অন্য কারো সাথে গল্প করেন তবে অন্যান্য কণ্ঠের মধ্যে ভ্রূণ তার মায়ের কণ্ঠ আলাদা করতে পারে। এমনকি বাবি ও বিবা এই ২টি ভিন্ন শব্দও সে আলাদা করতে পারে।

২৭তম সপ্তাহ

২৭তম সপ্তাহের মধ্যে ভ্রূণের মস্তিষ্ক আরো সচল হয়। সে নিয়মিত ঘুমায় ও জেগে ওঠে। এসময় ভ্রূণের আকার হয় একটা ফুলকপির সমান (প্রায় সাড়ে ১৪ ইঞ্চি) আর ওজন সাড়ে ৮০০ গ্রাম।

সূত্র: Baby Center.com

২৮তম সপ্তাহ

এসময় দর্শনের অনুভূতি বৃদ্ধি পেতে থাকে। ভ্রূণ চোখ মিটমিট করতে পারে। আর চোখের পাপড়িও গজাতে থাকে। ভ্রূণের আকার হয় একটা বড় বেগুনের সমান।

২৯তম সপ্তাহ

এ সপ্তাহে ভ্রূণের ফুসফুস আর পেশিগুলো আরো সচল হতে শুরু করে।

৩০তম সপ্তাহ

এসময় ক্রমবর্ধমান ভ্রূণকে জায়গা দেয়ার জন্য মায়ের অমরায় থাকা অ্যামিনিওটিক তরল কমতে থাকে। এসময় ভ্রূণের আকার হয় একটা বাঁধাকপির মতো (প্রায় সাড়ে ১৫ ইঞ্চি) যার ওজন প্রায় ১৩০০ গ্রাম।

৩১তম সপ্তাহ

এ সপ্তাহে ভ্রূণের ঘাড় আগের চেয়ে শক্ত হয় এবং সে ডানে বায়ে মাথা ঘুরাতে শেখে। এছাড়া তার হাত ও পায়ের পেশিতে ফ্যাট জমতে থাকে। এসময় ভ্রূণের আকার হয় একটা বড়োসড়ো নারকেলের সমান।

৩২তম সপ্তাহ

এ সপ্তাহ থেকে ভ্রূণের ওজন আগের চেয়েও দ্রুত হরে বাড়তে থাকে। এসময় শিশুর উচ্চতা হয় প্রায় সাড়ে ১৬ ইঞ্চি আর ওজন হয় প্রায় ১৭০০ গ্রাম।

৩৩তম সপ্তাহ

ভ্রূণের হার ধীরে ধীরে কঠিনতর হলেও এ সপ্তাহেও ভ্রূণের মাথা সার্ভিক্সের মধ্যে দিয়ে যাওয়ার জন্য উপযুক্ত নয়। এসময় ভ্রূণের আকার হয় একটা বড় আনারসের মতো (প্রায় ১৭ ইঞ্চি) আর ওজন হয় প্রায় ১৯০০ গ্রাম।

৩৪তম সপ্তাহ

এ সপ্তাহে ভ্রূণের স্নায়ুতন্ত্র ও শ্বাসতন্ত্র বেশ ভালোভাবেই গঠিত হয়ে যায়। এসময়ে যদি কোনো ভ্রূণ ভূমিষ্ঠ হয় এবং তার যদি অন্য কোনো শারীরিক জটিলতা না থাকে তবে কিছুদিন যান্ত্রিক মাধমের সহায়তা নিলেও পরবর্তীতে পৃথিবীর পরিবেশে টিকে থাকতে তার সমস্যা হয় না।

৩৫তম সপ্তাহ

এ সপ্তাহে শিশুর কিডনির গঠন সম্পূর্ণ হয়। শিশুর ওজন দ্রুত হারে বৃদ্ধি পেতে থাকে। আর তাই মায়ের পেটে ভ্রূণের জায়গা সংকীর্ণ হতে থাকে। তাই দেখা যায় অনেকসময় খুব অল্প পরিমাণ খাবার খেতেও মায়ের অস্বস্তি হতে পারে।

৩৬তম সপ্তাহ

এ সপ্তাহ থেকে ভ্রূণ শিশুর ওজন প্রতিদিন প্রায় ২৫-৩০ গ্রাম করে বাড়তে থাকে। শিশুর ত্বক সুরক্ষাকারী আবরণ ধীরে ধীরে পাতলা হতে থাকে। এসময় শিশু গিলতে পারে। মাঝে মাঝে ভ্রূণ মায়ের গর্ভস্থ তরল খেয়ে ফেলে। এসময় শিশুর উচ্চতা হয় প্রায় সাড়ে আঠারো ইঞ্চি এবং ওজন হয় প্রায় ২ কেজি ৬০০ গ্রাম।

সূত্র: Baby Center.com

৩৭তম সপ্তাহ

এসময়েও ভ্রূণের ফুসফুস বাইরের বাতাসে খাপ খাওয়ার জন্য প্রস্তুত নয়। তাই এসপ্তাহে জন্মানো শিশুকেও শ্বাস- প্রশ্বাসের জন্য যান্ত্রিক মাধ্যমের সহায়তা নিতে হয়। ভ্রূণের মস্তিষ্কও সম্পূর্ণ বিকশিত হয়নি। তাই মা ও শিশুর কোনো রকম শারীরিক জটিলতা না থাকলে এই সময়ে কখনোই সিজার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয় না। তবে এসময় মাকে ভ্রূণের নড়াচড়া সম্পর্কে সচেতন থাকতে হবে। যদিও জায়গার সংকীর্ণতার কারণে ভ্রূণের নড়াচড়া এসময় একটু কমে যেতে পারে। তবে নড়াচড়া অধিক হারে কমে গেলে কিংবা অনেক আস্তে আস্তে নড়াচড়া করলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে।

৩৮তম সপ্তাহ

এসময়ে ভ্রূণের গঠন সম্পূর্ণ হয়। এমনকি সে মুষ্টিবদ্ধও করতে পারে। বাহিরের জগতের সাথে খাপ খাওয়ানোর জন্য ভ্রূণশিশু একদম প্রস্তুত হয়ে যায়। এসময় মাকে যেকোনো পরিস্থিতির জন্য মানসিক ভাবে প্রস্তুত থাকতে হবে। হাসপাতালে প্রয়োজনীয় যেকোনো জিনিস যেন হাতের কাছে থাকে সেজন্য আগে থেকেই একটা ব্যাক-প্যাক প্রস্তুত করে কাছের মানুষকে সব বুঝিয়ে দেয়া যেতে পারে। এছাড়াও মায়ের রক্তের গ্রূপের সাথে মিলে এমন রক্তের গ্রূপের পরিচিত কাউকে প্রয়োজনীয় পরিস্থিতিতে রক্তদানের জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

৩৯তম সপ্তাহ

এসময়কে বলা হয় ফুল টার্ম। অর্থাৎ ভ্রূণ বাইরে আসার জন্য একদম প্রস্তুত। এসময় স্বাভাবিক পরিস্থিতিতিতে ভ্রূণশিশুর মাথা সার্ভিক্সের দিকে থাকার কথা, যদি মাথা ছাড়া অন্য কোনো অঙ্গ নিচের দিকে থাকে তবে একে বলে ব্রিচ পজিশন। এ অবস্থায়  মাকে অবশ্যই ডাক্তারের কাছে নিয়ে যেতে হবে। এসময় ভ্রূণ শিশু পা দিয়ে মায়ের পেটের দেয়ালে ধাক্কা দিতে থাকে যা তাকে সার্ভিক্সের দিকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে।

সূত্র: Baby Center.com
সূত্র: Baby Center.com

কোনো কারণে ৪০-৪১ সপ্তাহেও ডেলিভারির লক্ষণ দেখা না গেলে এই পুরো সময়টা একজন ডাক্তারের চেকাপের মধ্যে থাকতে হবে যেকোনো জটিলতা এড়ানোর জন্য। পুরো ৩৮-৪১ সপ্তাহ অপেক্ষার পর নবজাতকের কান্না সবার মুখে হাসি ফুটিয়ে দেয়।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: গর্ভবতী মায়ের যত্ন

DON'T MISS