তীব্র গরমে শিশুর যত্ন


চলছে গ্রীষ্মকাল। মাথার উপর প্রচন্ড রোদ। প্রচন্ড গরমে জীবন অতিষ্ট প্রায়। এই সময়ে বড়দের যেমন কষ্ট হয় তেমনি শিশুদেরও কষ্ট হয়। প্রচন্ড গরমে ছোট বড় সকলে হাঁপিয়ে ওঠে। বড়দের পাশাপাশি এই সময়ে ছোটদের প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। খাবার দাবারেও আনা চাই বৈচিত্র্যতা। নয়ত প্রচন্ড গরমে শিশু অসুস্থ হয়ে যাবে এবং ভাইরাসজনিত রোগ-ব্যাধি, ঠান্ডা, কাশি, খোসপাঁচড়ায় আক্রান্ত হয়ে যাবে। কারণ শিশুদের ত্বক খুব সংবেদনশীল। তাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও অনেক কম।

Photo: Pixabay

তাছাড়া প্রচন্ড গরমে শিশুরা অধিক ঘামে। যার ফলে শরীরে অনেক ঘামাচি হয়। অধিক ঘাম থেকে জ্বর কিংবা অন্যান্য সমস্যাও দেখা দিতে পারে। তাই শিশুর ত্বকের চাই বিশেষ যত্ন। এছাড়াও শিশুর খাবার নির্বাচনে চাই বিশেষ সতর্কতা। বাড়ন্ত শিশু ও নবজাতক শিশুর যত্নের ধরন একটু আলাদা। জেনে নিন তীব্র গরমে শিশুর যত্ন যেভাবে নিবেন তা সম্পর্কে।

সুতি পোশাক

গরমে শিশুকে সুতি পোশাক পরতে দিন। সুতি পোশাক পরিধানে শিশু আরাম পায় এবং সুস্থ থাকে। পশমী বা জর্জেট পোশাক পরলে শিশু গরমে অতিষ্ট হয়ে যায়।

Photo: AliExpress.com

তাই গরমে শিশুকে সুতি পোশাক, খোলামেলা অর্থাৎ ঢিলেঢালা পোশাক পরতে দিন। পোশাক নোংরা হয়ে গেলে পরিবর্তন করে দিন।

ঘামাচি পাউডার

তীব্র গরমে শিশুদের ত্বকে ঘামাচি হয়। ঘামাচি থেকে রক্ষা পেতে ভালো ব্রান্ডের ঘামাচি পাউডার ব্যবহার করুন।

Photo: NTV

অতিরিক্ত ঘামাচি হলে শিশুরা অসহ্য হয়ে যায় এবং কান্নাকাটি করে। তাছাড়া ঘামের ফলে জ্বর আসে অনেক শিশুর। তাই সবসময় শিশুর যত্ন নিতে হবে।

নিয়মিত গোসল

বাড়ন্ত শিশুরা খুব ছোটাছুটি করতে পছন্দ করে। বিশেষ করে যেসকল শিশুরা মাত্র হাঁটতে শেখে সেসব শিশুরা খুব জ্বালাতন করে। এক পা দু পা করে হাঁটে এবং এখানে সেখানে ছোটাছুটি করে। খেলাধুলা ও অন্যান্য কারণে শিশুদের হাতে, পায়ে অনেক ধুলোবালি ও ময়লা জমে থাকে।

Photo: ZenParent

তাই শিশুদের প্রতিদিন গোসল করাতে হবে। অনেক সময় তারা গোসল করতে চায় না। গোসল করতে না চাইলেও জোর করে গোসল করাতে হবে। এবং পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন পোশাক পরাতে হবে। নয়ত ধুলোবালি লেগে ত্বকে খোসপাঁচড়া হবে, চুলকানি হবে।

চুলের যত্ন

গরমে শিশুর চুলেরও যত্ন নিতে হবে। কারণ শিশুরা অনেক ঘামে। যার ফলে চুলও ঘামে। এছাড়া বাতাসের সাথে মিশে ধুলোবালি এসে চুলে আটকে থাকে। চুল পরিষ্কার না করলে মাথায় ঘা, খুশকি ইত্যাদি হতে পারে। তাই চুলের যত্ন নিতে হবে। চুলকে সুন্দর ও ঝলমলে রাখতে সপ্তাহে ২-৩ দিন শ্যাম্পু করতে হবে। তবে শিশুর চুলের যত্নে ভালো ব্রান্ডের শ্যাম্পু ব্যবহার করবেন। গরমে শিশুর যেন কষ্ট না হয় সেজন্য শিশুর চুল ছোট করে কেটে দিন। বড় চুল থাকলে শিশু বেশি ঘামে।

ঘর রাখুন ধুলোবালি মুক্ত

শিশুর সুস্থতার জন্য আপনার ঘর ও চারপাশকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হবে। অপরিষ্কার ঘরে বিভিন্ন পোকামাকড়, মশা, মাছি থাকে যা শিশুর বেড়ে ওঠার জন্য স্বাস্থ্যকর নয়। এছাড়া বাসায় পোকামাকড় থাকলে শিশুর শরীরে এসে বসবে এবং শিশুর খাবারেও বসবে। পরবর্তীতে এই খাবার শিশু খেলে ডায়রিয়া হবে। তাই আপনার বাড়ির চারপাশ ধুলোবালি মুক্ত ও পোকামাকড় মুক্ত রাখুন।

পানি পান

গরমে শিশুকে পানি পান করান। প্রয়োজনে ফিডারে পানি ভরে রাখবেন যেন শিশুর পানি খেতে সুবিধা হয়। অপেক্ষাকৃত বড় শিশুদের গ্লাসে পানি খেতে দিন। পানি ছাড়াও ডাবের পানি, লেবুর শরবত ইত্যাদি খেতে দিন।

Photo: InfoBaby.org

ডাবের পানি শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। এছাড়া শিশুকে স্যালাইন খাওয়াতে পারেন। স্যালাইন খেলে শিশু্র পানিশূন্যতা হবে না এবং শরীর হাইড্রেট থাকবে।

ফলমূল

গরমে শিশুকে ফল খাওয়ান। কারণ ফল শিশুর স্বাস্থ্যের জন্য খুব উপকারী। ফলমূলে প্রচুর ভিটামিন ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। শুধু ফল খেতে না চাইলে ফলের জুস বানিয়ে দিন। শিশুর সুস্থতা, বেড়ে ওঠা, পুষ্টির জন্য ফলের বিকল্প নেই। ফল কেনার আগে অবশ্যই ভালোভাবে দেখে নিবেন তা ফরমালিনমুক্ত কিনা। বাইরে থেকে কেনা ফলমূল কাটার আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখুন ১৫-২০ মিনিট।

পর্যাপ্ত ঘুম

গরমেও শিশুর প্রয়োজন পর্যাপ্ত ঘুম। একজন শিশুর প্রতিদিন ১০ ঘন্টার বেশি ঘুমানো উচিত।

Photo: SheKnows

শিশুর ঘরকে ধুলোবালিমুক্ত ও পরিষ্কার রাখুন যেন ঘুমের সময় ব্যাঘাত না ঘটে। এছাড়া ঘরের জানালা খোলা রাখবেন যেন আলো বাতাস চলাচল করতে পারে। শিশুকে সরাসরি ফ্যান কিংবা এসির নিচে শোয়াবেন না। এতে ঠান্ডা লেগে যেতে পারে।

সানস্ক্রিন লোশন

শিশুকে নিয়ে বাইরে গেলে তার ত্বকে সানস্ক্রিন লোশন মেখে নিন। নয়ত সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে শিশুর ত্বকের ক্ষতি হতে পারে। তাছাড়া সাথে অবশ্যই ছাতা রাখবেন।

বাড়ন্ত শিশু ছাড়াও নবজাতক শিশুর যত্ন নিতে হবে। এই তীব্র গরমে নবজাতকের চাই অধিক যত্ন। বাড়ন্ত শিশুর তুলনায় নবজাতক শিশুর ত্বক খুব সেনসিটিভ। শিশু বিশেষজ্ঞগণ মনে করেন নবজাতক শিশুদের সর্বদা পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে হয়।তোয়ালে কিংবা ভেজা কাপড় দিয়ে গা মুছে দিতে হয়। এছাড়াও নবজাতক শিশুর যত্নে যা যা করতে হবে তা নিচে দেওয়া হলো।

  • নবজাতককে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখুন।
  • পরিষ্কার তোয়ালে দিয়ে জড়িয়ে রাখুন।
  • তার চোখ, মুখ, মাথা মুছে দিন।
  • মায়ের বুকের শাল দুধ খাওয়ান।
  • বেশি ঘামতে দেয়া যাবে না।
  • পাতলা সুতি কাপড় পরাতে হবে।
  • জন্মের তিন দিনের মধ্যে গোসল করাবেন না।

শিশুদের ত্বক খুব নরম থাকে। গরমে তাদের প্রয়োজন বাড়তি যত্ন। অতিরিক্ত গরমে শিশু অসুস্থ হয়ে যেতে পারে। তাই পরিবারের বড়দের উচিত সঠিকভাবে শিশুর যত্ন নেয়া।

 

 

 

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসেন। নিয়মিত লিখছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: Parenting

DON'T MISS