গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে যে ১০টি কাজ অবশ্যই করবেন


সন্তান জন্মদানের সংবাদটি আনন্দময় হলেও একটি ছোট্ট নিশাচর সংবেদী নবজাতককে পৃথিবীর পরিবেশে উপযুক্ত করে তোলাটা ততটাই কঠিন। শিশু জন্মের সাথে সাথেই আপনার রাতের ঘুম হারাম হবে। দৈনিক রুটিন বা নিজের জন্য সময় বলে বাস্তবে কিছুই থাকবে না। দুচোখ ভরা ক্লান্তি থাকলেও ঘুমের দেখা পাওয়া সহজ হবে না। আর ছটফটে ক্রন্দনরত ছোট্ট মানুষটির চোখে একটু ঘুমের ছোঁয়া এনে দিতে পারলেই অনুভূত হবে বিশ্বজয়ের আনন্দ।

গর্ভকালীন শেষ সময়ে তাই এসব চিন্তা মাকে ভীত করে তুলতে পারে। তাছাড়া এই ৩য় ট্রাইমস্টারেও মায়ের শারীরিক অবস্থাতেও অনেক পরিবর্তন আসতে পারে। সব মিলিয়ে এই সময়ে মা শারীরিক ও মানসিকভাবে ভেঙেও পড়তে পারেন। গর্ভাবস্থার শেষ সময়ে তাই মাকে মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিতে হবে, নইলে এই কঠিন সময় পার করাটা হয়ে উঠবে আরও কঠিন।

ছবিসূত্রঃ Pinterest

নিজের প্রত্যাশাকে করুন সামঞ্জস্যপূর্ণ

আপনি হয়ত স্বীকার করতে চাইবেন না, কিন্তু গর্ভাবস্থার এই শেষ সময়ে আপনার প্রবল ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আপনি ইচ্ছানুযায়ী সব কাজ করতে পারবেন না। আপনাকে হয়তো ক্লান্তির কারণে দিনের বেলা একটু বিশ্রাম নিতে হবে। বাড়ন্ত ভ্রুণের ওজনের কারণে হাঁটাচলাতেও হবে অসুবিধা। রাতের ঘুমও পর্যাপ্ত হবেনা। ঘরের সব কাজ একা হাতে সামলানো হয়ে পড়বে অনেক কঠিন। কিন্তু এ সব ঘটনাই ৩য় ট্রাইমস্টারে অত্যন্ত স্বাভাবিক ব্যাপার। এ নিয়ে দুশ্চিন্তা করা বা হতাশ হওয়ার কিছু নেই। বরং মাকে এ পরিস্থিতিগুলো স্বাভাবিকভাবেই নিতে হবে।

প্রসব সংক্রান্ত ভয় এড়াতে সন্তান জন্মদানের সুখময় গল্প পড়ুন

ছবিসূত্রঃ Pinterest

গর্ভকালীন শেষ সময়ে অনেক মা প্রসব বেদনা বা নবজাতকের শারীরিক সুস্থতা ইত্যাদি নিয়ে দুশ্চিন্তা করে ভীত হয়ে পড়েন। কিন্তু এ সময়ে মায়ের দুশ্চিন্তা করা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই দুশ্চিন্তা এড়াতে এ সময় মা ভাল বই বা গল্প পড়তে পারেন। বই ও ইন্টারনেটে প্রসব সংক্রান্ত নানা বিষয়ের উপর টিপস নিয়ে অনেক ভাল ভাল লেখা আছে। এছাড়াও আছে সন্তান জন্মদানের সুখস্মৃতি নিয়ে লেখা অনেক মায়ের অনুভূতি। এ সময় হবু মা এই গল্পগুলো পড়তে পারেন। এগুলো তার দুশ্চিন্তা দূর করবে এবং তার মনে আত্মবিশ্বাস যোগাবে।

নিজের কাজগুলোর সুন্দর একটি তালিকা তৈরী করুন

ছবিসূত্রঃ shutterstock.com

শিশু জন্মের সময় অনেক জিনিস হাতের কাছে থাকা প্রয়োজন হয়ে থাকে। শিশু জন্মের পরেও তার ব্যবহার্য জিনিসগুলো আগে থেকেই জোগাড় করে রাখা উচিৎ। এছাড়াও মায়ের প্রসবকালীন সময়ে ও শিশু জন্মের পর শিশুর দেখা শোনা সহ অনেক কাজ রয়েছে যার জন্য কাছের লোকের সাহায্য প্রয়োজন। এই কাজগুলোর একটি সুন্দর তালিকা তৈরী করে ফেলুন এবং কাজগুলোকে উপস্থিত সকলের মাঝে ভাগ করে দিন। কখন কি করতে হবে সে সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে সঠিক সময়ে সঠিক পদক্ষেপ নিতে সকলের সুবিধা হবে।

আপনার অনাগত সন্তানের জন্য চিঠি লিখুন

ছবিসূত্রঃ Whisper

আপনার এই সময়ের অনুভূতি, আপনার অনাগত সন্তানকে নিয়ে আপনার নানা চিন্তা-দুশ্চিন্তা-পরিকল্পনা যেকোনো কিছু নিয়ে সন্তানের উদ্দেশ্যে চিঠি লিখুন। এখন এই কাজ আপনার কাছে অযৌক্তিক ও অর্থহীন মনে হলেও অনেক বছর পর যখন আপনার সন্তান চিঠিগুলোর অর্থ বুঝতে শিখবে তখন এই ছোট ছোট চিঠি বা চিরকুটগুলোই তার কাছে অনেক মূল্যবান সম্পদ মনে হবে।

পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করুন

নবজাতকের জন্মের পর প্রতিটি মাকেই অনেক পরিশ্রম ও ক্লান্তির মধ্য দিয়ে যেতে হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আরামের ঘুম তখন কেবল একটি অলীক স্বপ্নের নাম। অনেক মা বলে থাকেন যে, সন্তান জন্মাবার পর অনেক দিন তারা দুচোখের পাতা এক করতে পারেন নি। তাই সন্তান জন্ম নেওয়ার আগেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম গ্রহণ করে নিন।

নিজেকে কোনো ভাল কাজে ব্যস্ত রাখুন

গর্ভাবস্থায় নানারকম হরমোন নিঃসরিত হয় যার প্রতিক্রিয়া হিসেবে মায়ের আবেগপ্রবণতা বেড়ে যায়। অল্পতেই কান্না আসা, ভেঙে পড়া, দুশ্চিন্তাগ্রস্ত হয়ে পড়া এ সময়ে খুব স্বাভাবিক লক্ষণ। তাই মা নিজেকে ব্যস্ত রাখার উপায় বের করতে পারেন। সন্তান জন্মদান ও তাকে বড় করে তোলা একটি সুদীর্ঘ যাত্রা। এ সম্পর্কে অনেক কিছু জেনে রাখা প্রয়োজন। গর্ভাবস্থা, শিশু স্বাস্থ্য ও মনস্তত্ত্ব সংক্রান্ত বই বা জার্নাল ইত্যাদি পড়া বা অর্থবোধক যেকোনো কাজের মধ্যে মা নিজেকে ব্যস্ত রাখতে পারেন।

প্রচুর স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করুন

প্রসবকালীন সময়ে মায়ের প্রচুর শক্তি প্রয়োজন হয়। তাছাড়া শিশু জন্মাবার পরও মায়ের সুস্থতা নিশ্চিত করতে হবে। নইলে এই ক্লান্তিকর সময়ে মা শারীরিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। তাই মাকে আগে থেকেই প্রচুর স্বাস্থ্যকর খাবার গ্রহণ করতে হবে। তাছাড়া গর্ভাবস্থার শেষ সপ্তাহগুলোতেই ভ্রুণশিশুর বৃদ্ধি বেশি হয়। তাই শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক এ ধরণের খাবারগুলো বেশি করে খেতে হবে।

নিজের ও শিশুর শারীরিক বা যেকোনো বিষয় নিয়ে অন্যদের সাথে কথা বলুন

ছবিসূত্রঃ Huffington Post

এ সময় বিশেষ করে নতুন মায়েদের নানা বিষয় নিয়ে সন্দেহ থাকে। নিজের শারীরিক বিষয়গুলো অন্যের সাথে আলোচনা করতে অনেকে লজ্জা পান। লজ্জা না পেয়ে নিজের যেকোনো অনুভূতি বা সন্দেহ নিয়ে অন্য অভজ্ঞ লোকদের সাথে বা ডাক্তারের সাথে সরাসরি কথা বলুন। এতে ভয় দূর হবে ও আত্মবিশ্বাস বাড়বে।

নিয়মিত ব্যায়াম করুন

এ সময়ে নিরাপদ ব্যায়ামগুলো নিয়মিত করুন ও প্রতিদিন অন্তত ১ঘণ্টা করে হাঁটুন। এতে আপনার ফিটনেস বৃদ্ধি পাবে ও প্রসব সহজ হবে।

প্রসব ও নিজের অনাগত সন্তানের প্রতি পূর্ণ মনোযোগ দিন

আর কিছুদিন পরই আপনি মা হতে চলেছেন। আপনার অনাগত সন্তানকে প্রাণভরে দেখতে চলেছেন। এই সময়টি হতাশাগ্রস্ত না হয়ে উপভোগ করুন। আপনি সুস্থ ও হাশিখুশি থাকলে আপনার সন্তানও সুস্থ থাকবে।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: গর্ভবতী মায়ের যত্ন

DON'T MISS