শিশুর ওজন বৃদ্ধি করে এমন ৪০ টি খাবার (পর্ব-২)


আগের পর্ব দেখার জন্য নিচের লিঙ্কে যান।

শিশুর ওজন বৃদ্ধি করে এমন ৪০ টি খাবার (পর্ব-১)

৮. আম

আম যেমন ফলের রাজা, তেমন পুষ্টি ও স্বাদেও এর জুড়ি মেলা ভার। অধিকাংশ শিশু আম খেতে খুব পছন্দ করে। এতে আছে প্রচুর ফাইবার। পাকা আমে আছে ভিটামিন এ, যা শিশুর লিভারে জমা থেকে সারা বছরের ভিটামিন এ এর যোগান দেয়। তাছাড়া এটি হজমশক্তি বৃদ্ধি করে এবং শরীরের ট্রিপ্টোফ্যানের মাত্রা বাড়ায়, যা শিশুর মন-মেজাজ প্রফুল্ল রাখতে সহায়তা করে পাশাপাশি ওজনও বৃদ্ধি করে। আমের রস বা জুস, মোরব্বা, আম-দুধ-ভাত ইত্যাদি নানা উপায়ে শিশুর জন্য পুষ্টিকর খাবার তৈরী করা যায়|

৯. পীচ

ছবিসূত্রঃ badel1862.com.mk

এটিও খুব সুস্বাদু একটি ফল। ৬ মাস বয়স থেকেই এটি ব্লেন্ড করে শিশুকে খাওয়ানো যায়। এতে আছে ভিটামিন সি, ফাইবার ইত্যাদি। দ্রুত ওজন বৃদ্ধিতে এটি কার্যকর। ৬ মাস বয়সী শিশুকে দিনে ১টির অর্ধেক পীচ ফল দেয়া যায়। ১০ মাস হয়ে গেলে ১টি এবং ১ বছর বয়সী শিশুর জন্য প্রতিদিন ২টি পীচ ফল শিশুকে প্রয়োজনীয় ক্যালরি ও নানা পুষ্টিগুণ সরবরাহ করে।

১০. বিউলির ডাল

বিউলির ডালে আছে প্রচুর ক্যালোরি ও ফাইবার। এছাড়া পটাশিয়াম ও আয়রন। এটি শিশুর হজমশক্তি বৃদ্ধি করে ফলে শিশুর রুচি বাড়ে এবং শিশু কর্মঠ হয়। এছাড়া বলবর্ধক হিসেবেও পরিচিত। এটি শিশুর হাড়ের গঠন মজবুত করে ফলে শিশুর ওজনও বৃদ্ধি পায়। ডাল রান্না, সবজির সাথে মিশিয়ে বা খিচুড়ি তৈরী করে, কিংবা বিউলির ডাল ভেজে গুঁড়ো করে চাল বাজার সাথে মিশিয়ে ইত্যাদি নানা উপায়ে এটি শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে|

১১. পাকা কলা

পাকা কলাতে আছে প্রচুর আয়রন, পটাশিয়াম ও ভিটামিন সি। এটি শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য কমায়। তাছাড়া এটি ওজন বৃদ্ধিতেও সহায়ক। একটি পাকা কলাতে আছে ১০৫ ক্যালরি। তবে খালি পেটে কলা খাওয়ালে তা থেকে শিশুর গ্যাসের সমস্যা বা বদহজম দেখা দিতে পারে। তাই এটি অন্য শর্করা জাতীয় খাবারের সাথে মিশিয়ে বা অন্য খাবার খাওয়ানোর পর খাওয়াতে হবে।

শিশুর ৬ মাস বয়স থেকেই পাকা কলা খাওয়ানো যায়। ঠাণ্ডা লাগার ভয় থাকলে অল্প সময় গরম পানিতে ভিজিয়ে রেখেও এটি খাওয়ানো যেতে পারে। মিল্কশেক ও পুডিঙের মধ্যে মিশিয়েও কলা খাওয়ানো যায়।

১২. ফলের রস

বাজারের প্যাকেটজাত প্রিজারভেটিভ দেয়া কৃত্রিম ফলের রস নয়, প্রাকৃতিক ফলের রসে আছে প্রচুর ভিটামিন, পুষ্টি ও ক্যালরি। মৌসুমি ফলের রস বাসায় বানিয়ে দিতে পারেন। তবে অতিরিক্ত ফলের রসে শিশুর গ্যাস সৃষ্টি হতে পারে। প্রতিদিন এক গ্লাস রসই শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্য যথেষ্ট। এছাড়া ফলের রস কখনওই সকালে বা খালি পেটে দেয়া যাবে না। এতে এসিডিটি ও পেট ব্যাথা হতে পারে।

৮ মাস বয়স থেকে অল্প করে বা এক চামচ করে ফলের রস শিশুকে খাইয়ে অভ্যাস করিয়ে নেয়া যেতে পারে। তবে মনে রাখতে হবে, সব ফলের রস শিশুর জন্য নয়। যেমন: আনারস ২ বছরের আগে শিশুদের দেয়া ঠিক নয়। আবার আম, মালটা ইত্যাদির রস শিশুর ৮ মাস বয়সে দেয়া যেতে পারে। এরআগে দিলে খেয়াল রাখতে হবে হজমে সমস্যা হচ্ছে কিনা।

১৩. ওটস বা যব

ছবিসূত্রঃ NDTV Food

প্রতিটি ওটস দানায় আছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট। ওটসে আছে লিগিউমের মত প্রোটিন যা স্বাস্থ্যকর উপায়ে শিশুর ওজন বাড়ায়। এছাড়া এতে আছে ম্যাঙ্গানিজ, ফসফরাস এবং থায়ামিন। ওটস সিরিয়ালের মত করে, ওটস দিয়ে তৈরী খিচুড়ি, পায়েস এমনকি ওটসের বিস্কিটও খাওয়ানো যেতে পারে।

১৪. টোফু

ছবিসূত্রঃ The Splendid Table

সয়মিল্ক থেকে টোফু বানানো হয়। এতে আছে প্রচুর প্রোটিন ও ক্যালসিয়াম। এটি সবজি জাতীয় খাবার হলেও প্রোটিনের চাহিদা পূরণে এর জুড়ি নেই। প্রতিদিন ৩-৪ পিস টোফু শিশুদের ওজন বাড়ানোর জন্য যথেষ্ট।

১৫. সয়াবিন

ছবিসূত্রঃ indiamart.com

সয়াবিনও সবজি হলেও এতে মাংসের সমান প্রোটিন রয়েছে। এছাড়া রয়েছে আয়রন ও ক্যালসিয়াম, যা শিশুকে সুস্থ রাখে এবং ওজন বৃদ্ধি করে। বাজারে প্যাকেটজাত আকারে সয়া নামে যা পাওয়া যায় তাতেও সমান পুষ্টি বিদ্যমান।

১৬. মুরগির মাংস

শিশুকে ৮ মাস বয়স থেকেই মুরগির মাংস কিমা করে খিচুড়ির সাথে বা চিকেন স্যুপ তৈরী করে বা অন্যভাবে খাওয়ানো যেতে পারে। এতে আছে প্রচুর প্রোটিন, ফসফরাস, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি-৬, ভিটামিন বি-১২ এবং কোলেস্টেরল, যা শিশুর পরিমিত পুষ্টি যোগায়, শিশুকে করে তোলে কর্মঠ ও তার ওজনও বৃদ্ধি করে। লাল মাংসের (গরু, ছাগল, ভেড়া ইত্যাদি) চেয়ে মুরগির মাংসই শিশুর জন্য বেশি ভাল ও হজমে সহায়ক।

১৭. অলিভ অয়েল

ছবিসূত্রঃ Serious Eats

অলিভ অয়েলে আছে স্বাস্থ্যকর ফ্যাট, ভিটামিন ই। শিশুর যেকোনো খাবারে এক চামচ অলিভ অয়েল ব্যবহার করলে তা শিশুকে প্রচুর ক্যালরি সরবরাহ করে। ফলে শিশুর ওজন বৃদ্ধি পায়। তবে সব অলিভ অয়েল খাওয়া যায় না। খাওয়ার জন্য অলিভ অয়েলকে খাবার উপযোগী করে তৈরী করা হয়। শিশুর খাবারে ব্যবহার করতে পারেন ভারজিন অলিভ অয়েল। এটি শিশুর ত্বকের জন্যেও অনেক ভাল।

১৮. মুগ ডাল

মুগ ডালও শিশুর ওজন বাড়াতে সাহায্য করে। এতে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন এ, সি ও বি এবং আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন। শিশুদেরকে ভাতের সাথে ডাল আকারে, খিচুড়ির সাথে মিশিয়ে বা ভেজে গুঁড়ো করে সেরিলাকের সাথে মিশিয়েও খাওয়ানো যেতে বাড়ে। স্বল্প ওজনের শিশুদেরকে চাউল ও মুগ ডাল ভেজে গুঁড়ো করে, তাতে সয়াবিন তেল মিশিয়ে পুষ্টিকর খাবার হিসেবে খাওয়ানো হয়।

পরবর্তী পর্ব পড়ার জন্য নিচের লিঙ্কে যান।

শিশুর ওজন বৃদ্ধি করে এমন ৪০ টি খাবার (পর্ব-৩)

 

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: শিশুর যত্ন

DON'T MISS