শিশুর ওজন বৃদ্ধি করে এমন ৪০ টি খাবার (পর্ব-৩)


আগের পর্ব দেখার জন্য নিচের লিঙ্কে যান।

শিশুর ওজন বৃদ্ধি করে এমন ৪০ টি খাবার (পর্ব-২)

১৯. ছোলা

ছোলায় আছে প্রচুর ক্যালসিয়াম ও আয়রন। এছাড়া আছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, সামান্য ফ্যাট ও প্রোটিন। ১০০ গ্রাম ছোলা থেকে প্রায় ৩৬৪ ক্যালরি পাওয়া যায়। তবে শিশুদের ক্ষেত্রে ছোলা থেকেও গ্যাসের সমস্যা হতে পারে। ১০ মাস বয়সের পর থেকে শিশুদেরকে ছোলা দেয়া যেতে পারে। তবে খেয়াল রাখতে হবে যেন গ্যাস বা বদহজম না হয়। সাধারণত ছোলা ভেজে গুঁড়ো করে সেরিলাকের সাথে মিশিয়ে বা সেদ্ধ করে ছোট শিশুদেরকে খাওয়ানো যেতে পারে।

২০. লাল মাংস

লাল মাংস বলতে গরু, মহিষ বা ছাগলের মাংস বোঝায়। এগুলোতে আছে প্রচুর প্রোটিন, আয়রন ও ফ্যাট যা শিশুর শারীরিক বৃদ্ধির জন্য প্রয়োজনীয়। তবে এটিও ১০ মাস বয়সের পর থেকে শিশুকে দেয়া যেতে পারে।

২১. মাছ

মাছ শিশুর শরীরে প্রোটিনের চাহিদা পূরণ করে। সামুদ্রিক মাছে আছে ওমেগা-৩ এবং ফ্যাটি এসিড যা শিশুর মস্তিষ্কের বিকাশে সাহায্য করে। এছাড়া আছে ভিটামিন এ ও ডি, যা শিশুর দৃষ্টিশক্তি বৃদ্ধি করে এবং হাড়ের গঠন মজবুত করে। কিছু মাছ যেমন: শিং, মাগুর ইত্যাদিতে আছে প্রচুর আয়রন, যা শিশুর এনিমিয়া বা রক্তশূন্যতা রোধ করে। ৬ মাস বয়সের পর শিশুকে ধীরে ধীরে অল্প পরিমাণ মাছ খাবারে মিশিয়ে অভ্যস্ত করিয়ে নেয়া উচিত।

২২. মিষ্টি আলু

ছবিসূত্রঃ heraldk.com

শিশুর ৬ মাস বয়স হলেই মিষ্টি আলু দিয়ে শিশুর প্রথম শক্ত খাবার শুরু করা যায়। এটি সহজেই হজমযোগ্য কিন্তু পুষ্টিকর। এতে আছে ম্যাগনেসিয়াম, পটাশিয়াম, ভিটামিন এ ও সি, ফাইবার ও সহজপাচ্য ফ্যাট, যা শিশুর ওজন বৃদ্ধিতেও সহায়ক। তাছাড়া এতে আছে বিটাক্যারোটিন যা শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় ও আছে চিনি, যা শিশুকে প্রয়োজনীয় ক্যালোরি দেয়। মিষ্টি আলু সাধারণত সেদ্ধ করে, চটকিয়ে শিশুকে খাওয়ানো হয়। তবে ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে ফর্মুলা দুধ মিশিয়ে বা পায়েসের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যেতে পারে।

২৩. এভোক্যাডো

ছবিসূত্রঃ blog.thefork.com

কম ওজনের শিশুদের জন্য এভোক্যাডো উত্তম ফল। আর খেতেও সুস্বাদু। এতে শিশুর শারীরিক বিকাশের জন্য সকল পুষ্টি উপাদান, ফাইবার, ক্যালরি ও ফ্যাট বিদ্যমান। এটি শিশুদের রুচিও বৃদ্ধি করে। এটি পরিমাণ অনুযায়ী সব বয়সের শিশুকে খাওয়ানো যায়। তবে সকালে খালি পেটে যেন না খাওয়ানো হয় সেটা খেয়াল রাখতে হবে। ৬ মাস বয়সী শিশুদেরকে এটি সেদ্ধ করে চটকিয়ে এমনি বা ফর্মূলা দুধের সাথে মিশিয়ে খাওয়ানো যায়।

২৪. রাগী বা ফিঙ্গার মিলেট

ছবিসূত্রঃ Healthyliving from Nature – NatureLoC

রাগী হল এক ধরনের শস্যদানা যা থেকে আটা, ময়দা, সিরিয়াল ইত্যাদি বানানো যায়। শস্যদানা হিসেবে রাগী অত্যন্ত পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ এবং সুস্বাদু। এতে আছে কার্বোহাইড্রেট, প্রোটিন, ফ্যাট, ভিটামিন এ, ফাইবার, ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন বি কমপ্লেক্স। অনেকেই শিশুর ওজন বৃদ্ধির জন্য রাগী শিশুর খাবার তালিকায় রাখেন। রাগী সুজির মত করে তেল বা ঘিয়ে ভেজে, দুধ দিয়ে শিশুকে খাওয়াতে পারেন। এছাড়া রাগী থেকে রুটি, পাউরুটি ইত্যাদিও তৈরী করা যায়।

২৫. আলু

শর্করা জাতীয় খাদ্য শিশুর ওজন বৃদ্ধিতে সহায়ক, কারণ এটি শিশুকে প্রয়োজনীয় ক্যালোরি প্রদান করে। আলু একটি আদর্শ শর্করা জাতীয় খাদ্য। স্টার্চ ছাড়াও এতে আছে মিনারেল, ফাইটোকেমিক্যাল, ভিটামিন ইত্যাদি। ৬ মাস বয়স থেকেই শিশুদেরকে আলু খাওয়ানো যায়। আলু সেদ্ধ করে চটকিয়ে, কিংবা সামান্য ঘি ও লবণ দিয়ে ভাতের সাথে চটকিয়ে, খিচুড়িতে ইত্যাদি খাবারের সাথে মিশিয়ে শিশুদের আলু খাওয়ানো যায়। আলু সামান্য লবণ হলুদ দিয়ে তেলে ভেজে ও নানাভাবে মুখরোচক খাবার তৈরী করে শিশুদের খাওয়ানো যায়।

২৭. সফেদা ফল

ছবিসূত্রঃ Quora

সফেদা একটি সুমিষ্ট ও সুস্বাদু ফল এবং অধিকাংশ শিশুরা এটি খেতে খুব পছন্দ করে। এতে অতি মাত্রায় চিনি থাকে আর চিনি ওজন বৃদ্ধিতে কার্যকর। এটি শিশুর বল বৃদ্ধি করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং হাড়ের গঠন মজবুত করে। ৬ মাস বয়সী শিশুদেরও এটা খাওয়ানো যায়।

২৮. চিজ

ছবিসূত্রঃ Natural Food Series

দুধ থেকে ছানা তৈরী করে সেটাকে পরিশোধিত ও লবণ দ্বারা জীবাণুনাশক করে সামান্য ফ্লেভার বা রঙ মিশিয়ে বিভিন্ন স্বাদের ও টেক্সচারের চিজ তৈরী করা হয়। চিজে আছে উচ্চমাত্রায় প্রোটিন, ফসফরাস, ক্যালসিয়াম এবং স্নেহ জাতীয় পদার্থ, যা শিশুর জন্য অত্যন্ত পুষ্টিকর। এতে আছে প্রচুর ক্যালোরি, যা শিশুর ওজন বৃদ্ধি করে। সাধারণত ৮ মাস বয়স থেকে শিশুদেরকে চিজ দেয়া যায়। চিজ দিয়ে পাস্তাসহ নানারকম রেসিপি তৈরী করে শিশুদের খাওয়ানো যায়। পাউরুটির সাথে বার্গার বা পিজ্জা ইত্যাদি মুখরোচক খাবার তৈরী করেও চিজ খাওয়ানো যায়।

২৯. পেঁপে

পেঁপে খুব পুষ্টিকর এবং একইসাথে ওজন বাড়ানোর ক্ষেত্রে খুবই কার্যকর। পাকা মিষ্টি জাতীয় ফল বলে এতে আছে প্রচুর ক্যালরি। এছাড়াও পাকা পেঁপেতে আছে ভিটামিন এ, সি ও অন্যান্য উপাদান। পেঁপের জুস, সালাদ, কাঁচা পেঁপে দিয়ে সবজি ইত্যাদি বানিয়ে শিশুকে খাওয়ানো যেতে পারে। শিশুর ডায়রিয়া বা বদহজম হলেও কাঁচা কলার সাথে কাঁচা পেঁপের তরকারি খাওয়ানো যায়, কারণ এটি সহজেই হজমযোগ্য। ৬ মাস বয়সী শিশুকেও কাঁচা পেঁপে সেদ্ধ করে বা খিচুড়িতে মিশিয়ে খাওয়ানো যায়।

পরবর্তী পর্ব পড়ার জন্য নিচের লিঙ্কে এ যান।

শিশুর ওজন বৃদ্ধি করে এমন ৪০ টি খাবার (পর্ব-৪)

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: শিশুর যত্ন

DON'T MISS