নবজাতকের নাভি সংক্রান্ত বিস্তারিত


জন্মের সময় শিশুর নাভির সাথে সংযুক্ত থাকে আম্বিলিক্যাল কর্ড যার মাধ্যমে শিশু মায়ের শরীরের সাথে যুক্ত থাকে। এর মাধ্যমে শিশু মায়ের শরীর থেকে খাবার ও অক্সিজেন গ্রহণ করে থাকে। শিশু জন্মাবার সাথে তার নিজস্ব ফুসফুস শ্বাস নেবার জন্য ও পাকস্থলী খাবার পরিপাকের জন্য কাজ শুরু করে, তাই জন্মানোর সাথে সাথেই আম্বিলিক্যাল কর্ডটি কেটে দেয়া হয়। আম্বিলিক্যাল করে কোনো স্নায়ুনালী থাকেনা, তাই এটি কেটে ফেললে মা বা শিশু কারও ব্যাথা লাগে না। আম্বিলিক্যাল কর্ডের কিছু অংশ শিশুর নাভির সাথে আটকে থাকে, যা কয়েকদিনের মধ্যেই শুকিয়ে যায় এবং শিশুর শরীর থেকে আলাদা হয়ে খসে পরে।

ছবিসূত্রঃ gobekfitigi.gen.tr

তবে খসে পড়ার আগে পর্যন্ত এটির কিছু যত্ন করতে হয়। নতুবা শিশুর নাভিতে ইনফেকশন হয়ে ভোগান্তি আরও বাড়াতে পারে।

কিভাবে নবজাতকের নাভির ইনফেকশন প্রতিরোধ করা যায়?

যতক্ষণ না নবজাতকের নাভি শুকিয়ে খসে পড়ছে ততক্ষন একে সবসময় পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও শুকনো রাখতে হবে। তাই বলে এটি পরিষ্কার করার জন্য প্রতিদিন এই জায়গা ধোয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। বরং খেয়াল রাখতে হবে এতে যেন কোনোভাবে পানি না লাগে। নবজাতকের নাভি পরিষ্কার রাখতে কিছু টিপস মেনে চলা প্রয়োজন। যেমন:

ছবিসূত্রঃ BabyCentre
  • যদি কোনোভাবে নাভিতে পানি লাগে, তবে সাধারণ টিস্যু দিয়ে ধীরে ধীরে লেগে থাকা পানি মুছে নিন।
  • দিনে ২ বার হেক্সিসল জাতীয় জীবাণুনাশক তুলে দিয়ে লাগিয়ে দিন।
    ডায়পার পরানোর সময় খেয়াল রাখুন যেন কোনোভাবেই তা নাভি পর্যন্ত না আসে বা নাভিতে ঘষা না লাগে।
  • শিশুকে সুতি, ঢিলেঢালা, শুকনো ও পরিষ্কার কাপড় পড়ান।
  • এসময় শিশুকে পানি ঢেলে গোসল না করিয়ে শিশুর গা মুছিয়ে দিন এবং খেয়াল রাখবেন, শিশুর নাভির জায়গা মুছিয়ে দেয়ার কোনো প্রয়োজন নেই। ঋতু এবং আবহাওয়ার উপর শিশুকে কতদিন পর পর গোসল দিতে হবে তা নির্ভর করে। ডাক্তারের কাছ থেকে এ ব্যাপারে জেনে নিন।

নবজাতকের নাভি শুকাতে কতদিন সময় লাগতে পারে?

নবজাতকের নাভি শুকাতে সাধারণতো ১ থেকে ৩ সপ্তাহ লেগে যেতে পারে। তবে এই সময়ের মধ্যে শিশুর নাভিতে কোনো প্রকার সমস্যা হলো কি না তা খেয়াল রাখতে হবে। যেসব লক্ষণ দেখলে দ্রুত ডাক্তার দেখতে হবে সেগুলো হলো:

  • নাভিতে পুঁজ দেখতে পাওয়া
  • রক্ত আসা
  • নাভি ও নাভির শারপাশ ফুলে যাওয়া
  • নাভিতে সবুজাভ বা অনন্য রকম রং দেখা
ছবিসূত্রঃ BabyCenter

নাভি শুকিয়ে গেলে আম্বিলিক্যাল কর্ডটি নিজের থেকেই খসে যাবে। শুকিয়েছে কি না দেখতে দোয়া করে এটি নিয়ে বেশি টানাটানি করবেন না। এ থেকেই আবার নতুন সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে। আম্বিলিক্যাল কর্ড খসে যাবার পরেও কিছুদিন নাভিতে শুকনো রক্তের মতো লাল বর্ণ দেখা যেতে পারে। এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিছুদিনের মধ্যেই এটি স্বাভাবিক হয়ে যাবে।

আম্বিলিক্যাল কর্ড পরে যাবার পর নাভি নিয়ে ব্যতিব্যস্ত হওয়ার আর কোনো দরকার নেই এবং এর পর আপনি নিয়মমতো শিশুকে গোসলও দিতে পারবেন।

কোনো কোনো শিশুর নাভির আকার বেশি ফোলা বা গর্তের মতো হয় কেন?

ছবিসূত্রঃ helthcareladies.com

আম্বিলিক্যাল কর্ড পরে যাবার পরেও কিছু কিছু শিশুর নাভি দেখতে অনেক ফোলা মনে হতে পারে। এর কারণ হতে পারে নাভির চারপাশের টিস্যুর গঠনই এরকম। আবার কোন কোন শিশুর নাভি গর্তের মতো। এক্ষেত্রেও নাভির চারপাশের টিস্যুর গঠনই দায়ী। তবে এটি শিশু বড় হতে হতে স্বাভাবিক হয়ে যাওয়ার কথা। কিন্তু যদি নিজের থেকে স্বাভাবিক না হয় তবে এটি ঠিক করার কোনো পদ্ধতি নেই। তবে এটি দুশ্চিন্তার কোনো কারণ নয় কারণ নাভি দেখতে যেমনই হোক তা শারীরিক কোন ক্ষতি করে না।

শিশুর নাভি সংক্রান্ত জটিলতা

ছবিসূত্রঃ Newborns Planet

শিশুর নাভি ফোলা আকৃতির হলে অধিকাংশ সময় তা শারীরিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ বা দুশ্চিন্তার কারণ না হলেও অনেক সময় এটি আম্বিলিক্যাল হার্নিয়ারও লক্ষণ হতে পারে। যখন শিশুর ক্ষুদ্রান্ত্র এবং মেদ নাভির নিচে অবস্থিত পাকস্থলীর মাংসপেশিকে ঠেলতে থাকে তখন নাভি ফুলে ওঠে। এরকম হলে সত্যিই তা হার্নিয়া কি না তা বোঝার জন্য একবার ডাক্তারের পরামর্শ নেয়া প্রয়োজন। তবে আম্বিলিক্যাল হার্নিয়া মারাত্মক কোনো রোগ নয়। বরং পরবর্তী কয়েক বছরেই এটি নিজের থেকেই সেরে যায় কোনো চিকিৎসা ছাড়াই।

আরেকটি জটিল সমস্যা হলো ওমফ্যালিটিস (Omphalitis)। এটি সচরাচর দেখা না গেলেও যদি কোনো শিশুর এই ইনফেকশন হয় তবে তার প্রাণনাশের ঝুঁকি থাকে। ব্যাকটেরিয়া দ্বারা এই ইনফেকশন সৃষ্টি হয় এবং অনুন্নত ও উন্নয়নশীল দেশেই এটি বেশি হয়। সাধারণত অপরিকল্পিত ও অপরিষ্কার জায়গায় শিশু প্রসব কিংবা শিশুকে নিয়ে থাকলে এই রোগ হবার সম্ভাবনা থাকে। এই ইনফেকশন হলে তা শিশুর পেটের ভিতরেও ছড়িয়ে পরে ফলে শিশুর জন্য এটি মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এর লক্ষণগুলো হলো:

  • নাভি থেকে পুঁজ বের হওয়া
  • নাভি থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়া
  • রক্ত বের হতে থাকা
  • নাভির চারপাশ ফুলে যাওয়া
  • নাভির চারপাশ লাল হয়ে যাওয়া

এমন হলে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হবে।

এছাড়াও আম্বিলিক্যাল গ্র্যানুলোমা নামক আরেকটি সমস্যা নাভিতে দেখা যেতে পারে। এটি হলো নাভি শুকিয়ে যাওয়ার কিছুদিন পর নাভিতে একটি অস্বভাবিক লালবর্ণের ফোলা অংশ বা টিস্যু দেখা যেতে পারে। কিন্তু এটি দেখতে ভয়ঙ্কর হলেও এটি তেমন মারাত্মক কিছু নয়। তবে এমনটি হলে ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নিতে হবে।

Featured Image: MomJunction

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: শিশুর যত্ন

DON'T MISS