কমবয়সী মেয়েদের ত্বকের যত্নে অভিভাবকদের করণীয়


কৈশোরকাল মানুষের জীবনে খুব গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই সময়ে মানুষ নিজেকে ধীরে ধীরে চিনতে শুরু করে। তাদের শারীরিক বিভিন্ন পরিবর্তনের সাথে সাথে মানসিক ও আবেগীয় বিভিন্ন ধরনের পরিবর্তন হয়। কৈশোরকালে একজন তরুণীকে স্মার্ট হতে হয়। কেননা, সে ধীরে ধীরে সমাজ ও বাস্তবতার সাথে মিশতে শুরু করে এবং বিভিন্ন বিষয় নিয়ে চিন্তা করা শুরু করে।

এই সময়ে সে নিজেকে সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করতে চায়। আর অন্যদের সামনে নিজেকে সুন্দরভাবে উপস্থাপনের জন্য কিছু বিষয় জানা জরুরী। পোশাক, চুলের স্টাইল, সাজসজ্জা প্রতিটি ব্যাপারে একজন তরুণীকে সচেতন থাকতে হবে। কেননা, পোশাক ও লাইফস্টাইলের মাধ্যমে তার ব্যক্তিত্ব প্রকাশ পায়।

Photo: huffingtonpost.com

অভিভাবকের উচিত কৈশোরকালে মেয়েকে সৌন্দর্যের ব্যাপারে সচেতন করে তোলা। পরিষ্কার পরিচ্ছন্নতা, পরিপাটি ও গোছালো স্বভাব, সৌন্দর্য সচেতনতা প্রথমে পরিবার থেকে শিশু কিশোরেরা শিখে থাকে। একজন অভিভাবক হিসেবে তরুণীকে সৌন্দর্যের যেসব বিষয়ে সচেতন হওয়ার প্রতি উদ্বুদ্ধ করবেন তা নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে জেনে নিন।

মেকআপ টিপস

একজন তরুণীকে অবশ্যই মেকআপ টিপস সম্পর্কে জানতে হবে। এই সময়ে ত্বকের ধরন খুব সেনসিটিভ থাকে। যেকোনো ব্রান্ডের যেকোনো পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকে র‍্যাশ উঠতে পারে, ত্বকের সৌন্দর্যহানি হতে পারে। তাই এই সময়ে নির্ভরযোগ্য ব্রান্ডের পণ্য কিনতে হবে এবং ত্বকের সাথে মানানসই পণ্য নিয়মিত ব্যবহার করতে হবে। নয়তো ত্বকে বিরূপ ও নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এই সময়ে অভিভাবকের উচিত কিশোরীকে ভালো ব্রান্ডের মেকআপ ও পণ্যের সাথে পরিচিত করে তোলা।

Photo: webpostingreviews.com

অনেক কিশোরীরা ভাবে, ফাউন্ডেশন, প্যানকেক তাদের ত্বকের জন্য ভালো। কিন্তু তা নয়। কিশোরীদের ত্বকে ফাউন্ডেশন ব্যবহার না করা ভালো। কারণ ফাউন্ডেশন তাদের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যকে ম্লান করে দেয়, ঢেকে দেয়। তবে মুখে যদি অনেক দাগ, ক্ষত থাকে ও চোখের নিচে কালো দাগ থাকে তাহলে কনসিলার ব্যবহার করা যেতে পারে। কনসিলার ব্যবহার করলে ত্বকের দাগ, ক্ষত ঢেকে যায়। তাছাড়া ভালো ব্রান্ডের ফেসওয়াশ, ক্রিম, জেল ব্যবহার করতে হবে।

Photo: HuffPost

অনেক কিশোরীরা না বুঝে অন্যেকে অনুসরণ করে পণ্য ব্যবহার করতে চায়। এটি খুব খারাপ অভ্যাস। সবার ত্বকের ধরন এক নয়। তাই না বুঝে যেকোনো পণ্য ব্যবহার করলে উপকার নয়, বরং ক্ষতি হবে। তাই খুব সচেতন থাকা উচিত এই ব্যাপারে। নাম না জানা কোনো পণ্য কিংবা সাধারণ মানের কোনো পণ্য ব্যবহার করলে ত্বকে ব্রণ, পিম্পল দেখা যাবে এবং সৌন্দর্য ম্লান হয়ে যাবে। ভালো মেকআপ করার জন্য কনসিলার, আইস্যাডো, কাজল, আইলাইনার, মাশকারা ব্যবহার করা যেতে পারে।

ত্বকের যত্ন

তরুণীদের কৈশোরকাল থেকেই ত্বকের প্রতি যত্নশীল হওয়া উচিত। কেননা, যত্নশীল না হলে ত্বকে নানা ধরনের সমস্যা দেখা যাবে। যেমন: ত্বক খসখসে ও অসুন্দর হয়ে যাবে। চেহারার যত্নে ভালো ফেসওয়াশ এবং শরীরের যত্নে ভালো মানের সাবান ও লোশন ব্যবহার করতে হবে। নয়তো হাত, পা ও সারা শরীরের মসৃণতা বজায় থাকবে না।

তরুণীদের অবশ্যই মনে রাখতে হবে ফর্সা মানেই সুন্দর নয়। সুন্দর হতে হলে পরিপাটি হতে হয়, ত্বক স্বাস্থ্যজ্জ্বল হতে হয়। রোদে যাওয়ার আগে ভালো ব্রান্ডের সানস্ক্রিন লোশন ব্যবহার করা উচিত। নয়তো সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির প্রভাবে ত্বক পুড়ে যায়, ব্রণ ওঠে।

Photo: Lionesse Beauty Bar Reviews

কিশোরীর ত্বক যদি তৈলাক্ত হয়, তাহলে তার উচিত ত্বকের সাথে মানানসই পণ্য ব্যবহার করা। বাজারে বিভিন্ন ধরনের পণ্য পাওয়া যায়। শুষ্ক ত্বকে যেসব পণ্য মানায় সেগুলো তৈলাক্ত ত্বকে মানায় না। তাই পণ্য কেনার আগে অভিভাবক ও অভিজ্ঞদের পরামর্শ অনুসারে কেনা উচিত।

প্রতি সপ্তাহে এক্সফোলিয়েট করা উচিত। এক্সফোলিয়েট করলে ত্বকের মৃত কোষ চলে যায় এবং ত্বক সজীব থাকে। বাজারে এক্সফোলিয়েটের জন্য বিভিন্ন পণ্য কিনতে পাওয়া যায়। আবার ঘরে বসেও প্রাকৃতিক উপাদানের মিশেলে তৈরি করা যায়। ইচ্ছে ও সুবিধা অনুযায়ী যেকোনো উপায়ে রূপচর্চা করা যেতে পারে।

ঠোঁটের যত্ন

কিশোরীদের ঠোঁট খুব সেনসিটিভ হয়ে থাকে। কারো কারো ঠোঁট অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। অনেক সময় ঠোঁট ফেটে যায়। তাই তাদের উচিত নিয়মিত ভ্যাসলিন ও পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করা। নিয়মিত ভ্যাসলিন ও পেট্রোলিয়াম জেলি ব্যবহার করলে ত্বক ঠোঁট মসৃণ থাকে। তাছাড়া ভিটামিন বি জাতীয় খাবার খেতে হবে। ঠোঁট ফাটা দূর করতে ভিটামিন বি জাতীয় খাবারের বিকল্প নেই।

Photo: Mirror

কিশোরীদের প্রতিদিন ঠোঁটে লিপস্টিক দেয়া উচিত নয়। কারণ লিপস্টিক তৈরি হয় বিভিন্ন উপাদানের মিশেলে। প্রতিদিন লিপস্টিক ব্যবহার করলে ঠোঁট কালো হয়ে যায়। ঠোঁটের মসৃণতা বজায় রাখতে হলে ঠোঁটের চামড়া খুটিয়ে খুটিয়ে রক্ত বের করা যাবে না, অকারণে চামড়া ওঠানো যাবে না। তাছাড়া ঘরোয়া পদ্ধতিতে ঠোঁটের যত্ন করতে হবে। ঠোঁট মসৃণ ও সুন্দর করতে হলে একটি লেবু কেটে, তারসাথে চিনি মিশিয়ে, চার পাঁচ মিনিট ঠোঁটে ঘষলে ঠোঁট সুন্দর করতে পারবেন। লেবু ঠোঁটের কালচেভাব দূর করে এবং গোলাপি আভা এনে দেয়। তাছাড়া টুথপেস্ট লাগিয়ে দুই-তিন মিনিট অপেক্ষা করে তারপর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেললেও ঠোঁট সুন্দর হয়ে যায়।

নখের যত্ন

হাত, পা ও নখের যত্ন নেয়া কিশোরীদের দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। প্রতি সপ্তাহে একবার করে নখ কাটা এবং নখ পরিষ্কার করা উচিত। তারা ছেলেদের মতো সেলুনে যেতে পারে না। তাই অভিভাবকের উচিত তাদেরকে ম্যানিকিউর সেট কিনে দেওয়া, যেন বাসায় বসে হাত ও পায়ের যত্ন নিতে পারে।

Photo: CrossFit HPU

বাসায় বসে ম্যানিকিউর পেডিকিউর করলে নখ ভালো থাকবে। তাছাড়া, অতিরিক্ত নেইলপলিশ ব্যবহার করা উচিত নয়। এতে নখের ক্ষতি হয়।

উপরোক্ত আলোচনায় কিশোরীদের অনেক ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার কথা বলা হয়েছে। তবে এসব ব্যাপারে যত্নশীল হওয়ার পাশাপাশি তাকে সুষম খাবার খেতে হবে এবং প্রচুর পানি পান করতে হবে।

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ maxpixel.net

 

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগে অধ্যয়নরত । রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসে। নিয়মিত লিখে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: লাইফস্টাইল

DON'T MISS