শিশুদের নিয়ে ভ্রমণে গেলে যে বিষয়গুলো মাথায় রাখবেন


ভ্রমণ সর্বদা আনন্দের। কিন্তু শিশুদের নিয়ে ভ্রমণ করতে গেলে অনেক ঝামেলা পোহাতে হয়। কারণ ভ্রমণের সময় হাতে লাগেজ, ব্যাগ ইত্যাদি থাকে। এই সময় কোলে যখন শিশু থাকে, তখন অনেকটা বিড়ম্বনায় পড়তে হয়।

বলা যায়, শিশুকে নিয়ে ভ্রমণ করা চ্যালেঞ্জের মতো। তাই যেকোনো পথে অর্থাৎ, সড়কপথ, জলপথ কিংবা আকাশপথে ভ্রমণের সময় অনেক সতর্কতার সাথে ভ্রমণ করতে হয়। শিশুকে নিয়ে ভ্রমণ করার জন্য প্রয়োজন শিশুকে সামলিয়ে রাখার দক্ষতা। শিশুকে নিয়ে ভ্রমণে যাবার আগে কিছু বিষয় অবশ্যই মাথায় রাখুন।

আকাশপথে ভ্রমণ

শিশুকে নিয়ে দেশের বাইরে বেড়াতে যাওয়া কিংবা এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করলে কিছু বিষয় মাথায় রাখতে হবে। নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে জেনে নিন বিস্তারিত।

শিশুর বয়স বিবেচনা করুন

আমেরিকান অ্যাকাডেমি অফ পেডিয়াট্রিকস এর মতে, শিশুদের নিয়ে ভ্রমণ করতে হলে শিশুর বয়স কমপক্ষে সাত দিনের উপরে হতে হবে। আকাশপথে নবজাতক শিশুকে নিয়ে ভ্রমণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। তবুও জরুরী কোনো কাজে ভ্রমণ করলে মনে রাখবেন, আপনার শিশুর বয়স যেন সাত দিনের কম না হয়।

তবে সবচেয়ে ভালো হয় শিশুর বয়স তিনমাস বা তার বেশি হলে। শিশুর একমাস বয়সে বা তারআগে সমুদ্রসীমা থেকে আট হাজার ফিট উপরে ভ্রমণ করা উচিত নয়। বাতাসের প্রবাহ শিশুর ক্ষতির কারণ হতে পারে।

Source: Daily Mail

তাই এই বিষয়ে সচেতন থাকা জরুরী। তাছাড়া শিশু অসুস্থ থাকলে তাকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করবেন না। এতে তার মারাত্মক ক্ষতি হতে পারে। নবজাতক শিশুকে যতটা সম্ভব বাসায় রাখা ভালো। যদিও কোনো জরুরী প্রয়োজনে আকাশপথে ভ্রমণ করতে হয় তাহলে এই বিষয়গুলো অবশ্যই মাথায় রাখবেন।

বিমান ও বিমানবন্দর সম্পর্কে জানা

নবজাতক শিশুকে নিয়ে ভ্রমণের আগে বিমান ও বিমানবন্দর সম্পর্কে জেনে নিন। কারণ বিভিন্ন বিমানে বিভিন্ন নিয়মের বালাই থাকে। কোনো কোনো বিমানে শিশুকে নিয়ে সামনে বসার জন্য সিট থাকে আবার কোনো কোনো বিমানে থাকে না। তাই টিকেট কাটার পূর্বে বিমানের সুবিধাদি সম্পর্কে জেনে নিন।

Source: picflowhot.pw

খেয়াল রাখুন, বিমানের টয়লেটে ডায়াপার পরিবর্তন করার টেবিল আছে কিনা, শিশুদের জন্য খাবার বহন করতে দেয় কিনা, শিশুর প্রয়োজনীয় সামগ্রী বহন করতে দেয় কিনা, প্রাথমিক চিকিৎসার সুব্যবস্থা রয়েছে কিনা, অক্সিজেন মাস্কের সুব্যবস্থা রয়েছে কিনা ইত্যাদি। কোনো কোনো বিমানে খাবারের কৌটা, বয়াম, জুস ইত্যাদি বহন করতে দেয় না। তাই আপনার প্রয়োজন ও চাহিদা মেটানো যায় এমন বিমানের টিকেট বুকিং করুন।

শিশুকে প্রস্তুত করুন এবং দরকারি জিনিস সঙ্গে রাখুন

আকাশপথে ভ্রমণ করলে স্বাভাবিকভাবে শিশুরা ভয় পায় এবং কান্নাকাটি করে। তাই ভ্রমণের কয়েকদিন আগে থেকে আপনার শিশুর ঘুমানো ও খাওয়ার অভ্যাস পরিবর্তন করান।

Source: ESME.com

শিশুকে নিয়ে ভ্রমণ করলে সাথে অবশ্যই অনেক ডায়াপার রাখবেন। পর্যাপ্ত প্লাস্টিক ব্যাগ রাখুন, যেন প্রয়োজনে ব্যবহার করতে পারেন। ছোট তোয়ালে রাখুন, যেন শিশুর মুখ ও শরীর মুছে দিতে পারেন। সঙ্গে নার্সিং কভার রাখুন, যেন কোনো প্রকার দ্বিধা ছাড়া শিশুকে বুকের দুধ খাওয়াতে পারেন।

ডিহাইড্রেশন হলে যেন সহজে সমস্যা সমাধান করতে পারেন, তার জন্য সঙ্গে হাতে বানানো স্যালাইন রাখুন। ছয় মাসের বেশি বয়সী শিশুর জন্য সাথে কিছু শুকনো খাবার ও বেকড সবজি রাখুন। এছাড়াও অতিরিক্ত তোয়ালে, কাপড় সঙ্গে রাখুন। শিশুর জন্য সঙ্গে খেলনা ও কিছু বই রাখতে পারেন।

নিজের ব্যাগ গুছিয়ে নিন

আকাশপথে ভ্রমণের সময় শিশুর অতিরিক্ত কাপড়, তোয়ালে, ডায়াপার বহন করার পাশাপাশি নিজের জন্য কিছু একাধিক কাপড় বহন করুন। কেননা, শিশুকে সামলাতে গিয়ে কিংবা খাবার খাওয়াতে গিয়ে আপনার পোশাকে ময়লা লেগে যেতে পারে। তাই একাধিক পোশাক রাখলে সুবিধা অনুযায়ী বদলাতে পারবেন।

Source: Travel mad mum

ফ্লাইটের দিন নির্দিষ্ট সময়ের আগে বিমানবন্দরে চলে যাবেন। কেননা, অতিরিক্ত ভিড় শিশু সহ্য নাও করতে পারে। আগে থেকে চলে গেলে শিশু হয়তো কিছুটা মানিয়ে নিতে পারবে অথবা শিশুকে নিয়ে আপনি একটি নিরাপদস্থানে বসে থাকতে পারবেন।

সড়কপথে ভ্রমণ

শিশুকে নিয়ে আকাশপথে ভ্রমণ করা অনেকটা ঝুঁকিপূর্ণ হলেও সড়কপথে কিছুটা কম ঝুঁকি রয়েছে। পাবলিক পরিবহনে ভ্রমণ না করে নিজস্ব পরিবহনে ভ্রমণ করুন। নিজস্ব পরিবহন না থাকলে, ভাড়া করে নিতে পারেন একদিন কিংবা দুই দিনের জন্য।

আবহাওয়া ভালো থাকলে ভ্রমণে যান

শিশুকে নিয়ে ভ্রমণে যাওয়ার আগে আবহাওয়া দেখে নিন। অতিরিক্ত গরমে ঘেমে একাকার হয়ে গেলে কিংবা মুষলধারে বৃষ্টি হলে ও বজ্রপাত হলে শিশু ও আপনি কেউ শান্তিতে ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাই ভ্রমণের সময় স্বস্থি ও আরামদায়কতার ব্যাপারটি মাথায় রাখুন। আবহাওয়া ভালো থাকলে ঘোরাঘুরি করে শান্তি পাওয়া যায়।

চলাচলের পথে ফুয়েল স্টেশন খুঁজুন

যাতায়াতের সময় ফুয়েল স্টেশন খুঁজুন। গাড়ির তেল ফুড়িয়ে এলে কিংবা আপনাদের খানিক বিশ্রামের প্রয়োজন হলে ফুয়েল স্টেশনে থামতে পারেন। কারণ ফুয়েল স্টেশনের পাশে খাবারের দোকান, কফি শপ থাকে এবং ওয়াশরুম থাকে।

Source: Financial Tribune

তাই শিশুর ডায়াপার পরিবর্তন অথবা আপনার ফ্রেশ হওয়ার প্রয়োজন হলে সেখানে গিয়ে ফ্রেশ হতে পারবেন।

শিশুকে আনন্দিত রাখুন

অধিকাংশ শিশুরা ভ্রমণের সময় কান্নাকাটি করে। তাই অভিভাবক হিসেবে আপনাকে শিশুর প্রতি আরো যত্নশীল হতে হবে এবং কীভাবে শিশুর কান্না থামানো যায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

Source: BestCarSeatHUB.com

তাই শিশুর সাথে ইশারায় খেলার চেষ্টা করুন, শিশুর হাতে খেলনা দিয়ে রাখুন অথবা তাকে ছড়া, কবিতা, গান শোনান।

শিশুকে কখনো গাড়িতে একা রাখবেন না

কোথাও যাতায়াতের সময় গাড়িতে শিশুকে একা রেখে এখানে-সেখানে যাবেন না। এতে শিশুর ক্ষতি হতে পারে। গাড়ির তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে শিশুর হিট স্ট্রোক হতে পারে। তাই সর্বদা সাবধান ও সচেতন থাকুন।

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ Travel mad mum 

 

 

 

 

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসেন। নিয়মিত লিখছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: শিশুর যত্ন

DON'T MISS