কিশোর কিশোরীদের চুল পড়া প্রতিরোধের উপায়


চুল পড়া সমস্যা একটি মারাত্মক সমস্যা। বর্তমান সময়ে প্রায় নব্বই শতাংশ মানুষের চুল পড়ে। কিশোর কিশোরীদেরও চুল পড়ে। তবে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বেশি চুল পড়ে। চুল পড়ার ব্যাপারটি খুব সাধারণ নয়। দেখা যায়, চুল পড়া নিয়ে মেয়েরা বেশি দুশ্চিন্তা করতে করতে আরো বেশি চুল পড়া শুরু হয়। চুল পড়লে মানুষের সম্পূর্ণ সৌন্দর্য প্রকাশ পায় না।

চুল পড়া; ছবিসূত্রঃ CrowdInk

তাছাড়া নিজের উপর বিশ্বাস কমে যায়। সাধারণত পারিপার্শ্বিক কারণে, পানিতে আয়রন থাকার কারণে, মাথায় খুশকি থাকলে, হরমোনজনিত কারণে চুল পড়ে। তাছাড়া দুশ্চিন্তা ও চাপের মধ্যে থাকলে বেশি চুল পড়ে। পর্যাপ্ত পরিমাণে খাবার না খেলে, সুষম খাবার না খেলে, পুষ্টিকর খাবারের অভাবে চুল পড়ে। তাই চুল কেন পড়ে তা সম্পর্কে আগে ভালো করে জেনে নেওয়া উচিত। নিম্নোক্ত আলোচনা থেকে জেনে নিন কিশোর কিশোরীদের চুল পড়ার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে।

কিশোরীদের চুল পড়ার কারণ

নানা কারণে কিশোর কিশোরীদের চুল পড়ে। এই সময়ে ছেলেদের তুলনায় মেয়েদের বেশি চুল পড়ে।  শারীরিক ও মানসিক সমস্যার কারণেও চুল পড়ে।

পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব

পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাবে চুল পড়ে। কিশোর কিশরীদের যদি ভিটামিন বি১, বি২, সি, ই, আয়রনের অভাব থাকে তাহলে চুল পড়ে। স্বাস্থ্যকর খাবারের পরিবর্তে যদি অতিরিক্ত তৈলাক্ত ও বাইরের খাবার খায় তাহলে চুল পড়া বেড়ে যায়। স্বাস্থ্যকর চর্বি ও প্রোটিনের ঘাটতি থাকলে চুল পড়ে। তাই চুল কেন পড়ে তার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে আগে অবহিত হতে হবে।

অতিরিক্ত চুল পড়া; ছবিসূত্রঃ MomJunction

পর্যাপ্ত পুষ্টির অভাব থাকলে চুল পাতলা ও নির্জীব হয়ে পড়ে। তাই চুল পড়া প্রতিরোধ করতে হলে পর্যাপ্ত প্রোটিন, ভিটামিন, মিনারেল জাতীয় খাবার খেতে হবে। রঙিন ফল ও শাকসবজি খেতে হবে। মাছ ও মাছের তেল, মুরগি, ডিম, সবজি, টফু, অলিভ অয়েল, দুধের তৈরি খাবার ইত্যাদি খেতে হবে।

থাইরয়েডের সমস্যা

অনেকের বংশগত কারণে চুল পড়ে ও চুল পাতলা হয়। আবার অনেকের থাইরয়েডের সমস্যা থাকলে চুল পড়ে। থাইরয়েড গ্রন্থি চুল বৃদ্ধি করে এবং চুল ভালো রাখে। হঠাৎ করে চুল পড়া সমস্যা দেখা দিলে বুঝতে হবে হাইপোথাইরোয়েডিজম সমস্যা হয়েছে। তাই চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হবে। থাইরয়েড গ্রন্থি যখন হরমোন তৈরি করতে পারে না তখন চুল পড়া বেড়ে যায়।

দাঁতের সমস্যা

চুল পড়ার সাথে শারীরিক অনেক কারণ জড়িত রয়েছে। দাঁত ও মাড়ির সমস্যা হলে চুল পড়া বেড়ে যায়। গবেষকরা এমনটাই বলে থাকেন। ‘অ্যানাজম হেয়ার সিন্ড্রোম’ সমস্যায় যারা ভোগেন তাদের মাড়ি ও দাঁতের গোড়া নরম হয়ে যায়। তাছাড়া এনামেলের গঠন দূর্বল হয়ে যায় এবং দাঁতে ক্যাভেটিসের সমস্যা দেখা দেয়।

মানসিক চাপ

অতিরিক্ত মানসিক চাপ ও দুশ্চিন্তার কারণে চুল পড়ে। পড়াশোনা অথবা ব্যক্তিগত নানা কারণে মানসিক সমস্যায় ভুগলে চুল পড়া বেড়ে যায়। হতাশা, বিষণ্নতা, অসুস্থতা জনিত কারণে চুল পড়ে।

বিষণ্ণ কিশোরী; ছবিসূত্রঃ Parenting Teenagers Academy

অনেক সময় অতিরিক্ত ওষুধ সেবনের কারণে চুল পড়ে। মানসিক চাপ কমে গেলে চুল পড়া কমে যায়। তাই কিশোরীদের মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে।

অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন

শরীরের ওজন বেড়ে গেলে টেস্টেস্টোরেনের পরিমাণ বেড়ে যায়। চুল পড়ে যাওয়ার অন্যতম এক কারণ হলো অতিরিক্ত টেস্টোস্টেরন। এর কারণে পেটে চর্বি হতে পারে, দাঁড়ি ও চুল হালকা হয়ে যেতে পারে। ওজন কমালে টেস্টোস্টেরন এর পরিমাণ কমে। তাই যাদের ওজন শারীরিক উচ্চতার চেয়ে অধিক তারা ওজন কমানোর মাধ্যমে চুল পড়া রোধ করতে পারেন।

চুলের ওপর অতিরিক্ত চাপ

অনেক মেয়েরা চুলে হিট দেয়, বছরে এক-দুইবার চুল স্ট্রেইট করে। যার কারণে চুল পড়ে। অতিরিক্ত হেয়ার স্টাইল পরিবর্তন করলে কিংবা চুলের আগা ফেটে গেলে চুল পড়া বেড়ে যায়। মাথার ত্বক অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে গেলে, মাথায় খুশকি থাকলে চুল পড়ে।

চুলে হিট দেয়া; ছবিসূত্রঃ The Independent

ভেজা চুল দীর্ঘক্ষণ বেঁধে রাখলে চুলের গোড়া নরম হয়ে যায় এবং চুল পড়া বেড়ে যায়। তাই চুল পড়া রোধ করতে চাইলে অতিরিক্ত হিট দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং চুল পড়ার অন্যান্য কারণ সম্পর্কে সচেতন হয়ে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

চুল পড়া রোধ করার উপায়

চুল পড়া খুব সাধারণ একটি সমস্যা হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেকের অগণিত চুল পড়ে। যে কারণে চুল পড়ুক না কেন, প্রথমে এর কারণ খুঁজে বের করে তার সমাধান করতে হবে। এছাড়া নিয়মিত চুলের যত্ন নিতে হবে।

তেলের ব্যবহার

তেল হলো চুলের খাদ্য। কিশোর কিশোরীদের চুলে তেল দেওয়া নিয়ে অনীহা থাকে। চুলে তেল না দিলে চুল অতিরিক্ত শুষ্ক হয়ে যায়। তাই চুলে নিয়মিত তেল দিতে হবে।

চুলে তেল দেয়া; ছবিসূত্রঃ StyleCraze

ভালো ব্রান্ডের তেল ব্যবহার করলে চুল শক্ত ও মজবুত হবে। সেই সাথে চুল পড়া আগের চেয়ে অনেকাংশে কমে আসবে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার

পর্যাপ্ত প্রোটিনের অভাবে চুল পড়া বেড়ে যায়। তাই কিশোরীদের উচিত পর্যাপ্ত প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করা। দুধ, ডিম, ডাল, মাছ, ফল ও শাকসবজি ইত্যাদি খাবার প্রচুর পরিমাণে খেতে হবে।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার; ছবিসূত্রঃ Generation Iron

বীজ, বাদাম, শিম ইত্যাদি খাবার খেতে হবে। তাছাড়া অন্যান্য খাবার যেমন ভিটামিন ও পুষ্টিকর খাবার খেতে হবে এবং ফাস্টফুড, অতিরিক্ত ভাজা পোড়া খাবার খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে।

দুশ্চিন্তাকে বিদায় ও কিছু অভ্যাসের পরিবর্তন

চুল পড়া প্রতিরোধ করতে হলে দুশিন্তাকে বিদায় জানাতে হবে, মানসিক চাপ থেকে মুক্ত থাকতে হবে। ভেজা চুল বাঁধা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খেতে হবে, পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। যথাসম্ভব প্রফুল্ল থাকার চেষ্টা করতে হবে।

উপরিউক্ত বিষয়গুলো ছাড়াও চুলে মেথি, পেঁয়াজের রস, চায়ের লিকার, ঘৃতকুমারীর জেল ইত্যাদি ব্যবহার করা যেতে পারে। প্রতি সপ্তাহে একবার চুলে হেনা প্যাক লাগালে চুল পড়া অনেকাংশে কমে যায়।

 

ফিচার ইমেজ সোর্সঃ  Mom Junction

 

 

 

 

 

 

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসেন। নিয়মিত লিখছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: লাইফস্টাইল

DON'T MISS