বাচ্চাদের মতে তাদের আদর করার সঠিক উপায়


বাচ্চারা আদর প্রিয় হবে এবং মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু হতে চাবে এটাই স্বাভাবিক! তবে আপনি কি জানেন বেশিরভাগ বাচ্চারা কেমন ধরনের আদর পেতে ভালোবাসে? না জানলে, আজকের এই লেখাটি থেকে জেনে নিতে পারেন। কারণ বাচ্চাদের সঠিকভাবে আদর ও মনোযোগ দেয়ার ওপর কিন্তু তাদের মানসিক বিকাশও নির্ভর করে!

১। ঘুমাতে যাওয়ার আগে জড়িয়ে ধরুন এবং আদর করে দিন

ঘুমাতে যাওয়ার সময় কিন্তু আমাদের সবারই ভালো খারাপ সব কিছুর কথাই মনে পড়ে এবং তার একটি মানসিক প্রভাবও পড়ে আমাদের ওপর। বাচ্চারা কিন্তু এর ব্যতিক্রম নয়! আপনার সন্তানকে ঘুমাতে যাওয়ার আগে কোলে জড়িয়ে নিন এবং বলুন যে তার কোন দিকগুলো আপনি খুব পছন্দ করেন এবং সেই দিকগুলো কীভাবে তাকে অন্য সবার চাইতে আলদা করে তোলে।

তাকে ভালো কিছু কথা বলুন এবং আদর করে ঘুম পাড়িয়ে দিন। এতে করে তার মানসিক বিকাশ যেমন ইতিবাচক হবে, তেমনি সে বেড়ে উঠবে হাসিখুশি মনোভাব নিয়ে ও আত্মবিশ্বাসী হয়ে।

ছবিসূত্র: True Mom Confessions

২। অগোছালো রুম পরিষ্কারে তাদের সহযোগিতা করুন

একদম ছোট থেকেই কিন্তু আপনার সন্তানকে নিজের রুমের জায়গার জিনিস জায়গায় রাখা শেখাবেন। আর সেক্ষেত্রে তাকে  নির্দেশনা না দিয়ে তার সাথে কাজে হাত বাড়বেন। এতে করে সে আপনাকে অনুকরণ করে কাজ করতে শিখবে। প্রতিদিন সকালে উঠে বিছানা গোছানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে রুমের বিভিন্ন অংশ গোছানো শেখান।

ছোটবেলা থেকে করতে থাকেল বিষয়টি অভ্যাসে পরিণত হয়ে যাবে। বাচ্চাদের মতে, তাদের রুম গোছানোর সময় তাদের সাথে বাবা অথবা মা বা দু’জনই থাকলে তাদের বেশ ভালো লাগে। এতে করে তারা একদিকে যেমন সঙ্গ পায়, তেমনি অন্যদিকে মজায় মজায় কাজটি শেষ হয়ে যায়।

৩। বাজার আনার সময় বাচ্চাদের জন্য টুকিটাকি হলেও কিছু আনুন

কী? শুনে নিশ্চয়ই মনে হচ্ছে যে, এটা তো বড় ছোট সবার জন্যই খুবই সাধারণ ব্যাপার তাই না? তবে যত যাই হোক না কেন, ছোটদের মানসিকতা কিন্তু বড়দের চাইতে একেবারেই আলাদা। তারা যেমন অনুকরণ প্রিয়, তেমনি একটু বেশি যত্ন ও মনোযোগেরও চাহিদা রয়েছে অনেক। আপনার সন্তান কোন ধরনের খাবার পছন্দ করে তা আপনি নিজে তাকে তদারক করে বুঝে নিতে পারেন বা সরাসরি জেনে নিতে পারেন। বাজার করে আনার সময় তার জন্য পছন্দের খাবার নিয়ে আসুন। হোক সেটা খুব সামান্য পরিমাণের সামান্য কিছু! এতে করে সহজেই আপনি তার প্রতি আপনার ভালোবাসার প্রকাশ করতে পারবেন।

ছবিসূত্র: Everyday Family

৪। হ্যাঁ বলুন

আজকালকার দিনে প্রায় অধিকাংশ বাবা মা-ই কর্মব্যস্ত জীবন কাটান। এমনকি অনেক কাজ বাসায় এসেও করতে হয়! আর কাজ ছেড়ে বাসায় আসলেও ক্লান্তি যেন সহজেই পিছু ছাড়তে চাই না। তাই শত অনিচ্ছা সত্ত্বেও বাচ্চাদের অনেক কিছুতে না করতে হয়।

‘না’- পারতপক্ষে বাচ্চারা কোন কিছু আবদার করলে, জানতে বা বুঝতে চাইলে এই শব্দটি এড়িয়ে চলুন। কারণ কোন কিছু জিজ্ঞেস করতে এসে আপনার সন্তান যদি একবার আপনার কাছ থেকে না শুনে বা না জেনে ফিরে যায় তবে পরেরবার এই ধরনের জিজ্ঞাসা না নিয়ে আসার সম্ভাবনাই বেশি। আর এরকম সবকিছুতেই না বলতে থাকলে তো এক সময় সে আপনার কাছে আর কোনো উত্তর জানতে বা জিজ্ঞাসা নিয়ে আসবে না। তাই একটি দিনের একটি নির্দিষ্ট সময় আপনার সন্তানের কথাগুলো শোনা ও তার সাথে থাকার জন্য নির্ধারিত করে রাখুন।

৫। গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর জন্য তার কাছে সহযোগিতা চান

আপনার সন্তানকে কি কখনো কোন কাজে আপনাকে সাহায্য করার কথা বলছেনে? যদি বলে থাকেন, তবে আপনি সঠিক দিশাতেই আছেন। আর যদি না করে থাকেন, তবে জেনে নিন যে অতি শীঘ্রই কেন আপনার সন্তানের ভালোর জন্য আপনার এই কাজটি শুরু করা উচিত।

আপনি যদি কোন কাজের দায়িত্ব আপনার সন্তানকে দেন, তাহলে সে বুঝবে যে আপনি তাকে গুরুত্ব দিচ্ছেন। এছাড়াও আপনার সন্তান বুঝতে শিখবে, কাজ ভাগাভাগি করে নেয়া এবং তার দায়িত্ব পালন করাটাও কতোটা জরুরী। শুধু তাই নয়, এমনটা করলে আপনার সন্তান নিজের কাজের সক্ষমতা সম্পর্কে ধারণা পাবে এবং তার নিজের আত্মবিশ্বাসটাও বাড়বে।

ছবিসূত্র: Medium

৬। দিনের খারাপ ও ভালো সময়গুলো সম্পর্কে জিজ্ঞেস করুন

রাতেরবেলা খাওয়ার সময়টি একটি পরিবারের জন্য আদর্শ সময়ই বলা চলে। সেসময় পরিবারের কর্মজীবিসহ অন্য সবাই একত্রিত হতে পারে। তাই প্রতিদিন কে কী করলো, কেমন গেলো দিন সেসব নিয়ে বিস্তর আলোচনা করা যায়। তো এই বিষয়টি আপনার সন্তানকে দিয়েই শুরু হোক!

সবার আগে আপনার সন্তানকে জিজ্ঞেস করুন যে, সে সারাদিন কী কী করেছে, কোন সময়টা তার জন্য সবচাইতে ভালো বা খারাপ ছিল, পরের দিনের রুটিন সে ঠিকঠাক মতো করেছে কিনা। এতে করে সে বুঝতে শিখবে যে প্রতিদিনের প্রতিটি মুহূর্ত এবং সময় যথাযথভাবে গুরুত্ব দেয়া কতোটা জরুরী।

এছাড়াও নিজেদের দিনের খারাপ ও ভালো সময়গুলো নিয়ে আলোচনা করুন এবং খারাপ কোন পরিস্থিতি কীভাবে সামলাচ্ছেন সেই অভিজ্ঞতাও তাদের সাথে ভাগভাগি করে নিন। আপনার সেই অভিজ্ঞতা ও কৌশল থেকে আপনার সন্তানও শিক্ষা নিতে পারবে। এই এই পুরো কথোপকথনে যে পরিবেশ সৃষ্টি হবে তা আপনার সন্তানকে একরকম আনন্দ দেবে এবং সম্পর্কের সুন্দর দিকগুলো উপলব্ধিও করতে শিখবে তারা।

ছবিসূত্র: jezebel.com

Feature Image Source: Crosswalk.com

 

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: Parenting

DON'T MISS