শ্বাশুড়ি হিসেবে যে আচরণগুলো অবশ্যই করবেন না


শুধু বাংলাদেশ নয়, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো জুড়েই ‘বউ-শ্বাশুড়ির দ্বন্দ্ব’ অত্যন্ত পরিচিত। অনেকে এটা নিয়ে ঠাট্টা-মশকরা করলেও বিষয়টি মোটেও হালকা নয়। গুরুতর মনমালিন্য থেকে শুরু করে খুনোখুনি হওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে যায় এই দ্বন্দ্বকে পুঁজি করে। সংসার ভেঙে যাওয়া, হরদম পারিবারিক কলহ সৃষ্টি হওয়া ইত্যাদি অশান্তি তো আছেই।

শ্বাশুড়ি গুরুজন; অভিজ্ঞতা, বয়স, পরিপক্বতা সবই তাঁদের বেশি তাই ‘বউ-শ্বাশুড়ির দ্বন্দ্ব’ নিরসনে শ্বাশুড়িকেই বিচক্ষণতার পরিচয় দিতে হবে। শ্বাশুড়িদের জন্য সাইকোলজিস্ট মেগান শাওরি একটি বিশেষ তালিকা তৈরি করেছেন। শ্বাশুড়িদেরকে তালিকায় থাকা কাজগুলো এড়িয়ে যাওয়ার জন্য জোরদার পরামর্শ দেয়া হয়েছে। চলুন, জেনে নেয়া যাক শ্বাশুড়ি হিসেবে যে কাজগুলো অবশ্যই করা যাবে না।

সমালোচনা করা

আপনার সন্তানের বিয়ের বয়স ১ মাস হোক বা ২০ বছর, তাদের জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে সমালোচনা করা থেকে শ্বাশুড়িকে সবসময় বিরত থাকতে হবে। যদি খাবারটা একটু পুড়ে গিয়ে থাকে, ঘরটা একটু অগোছালো থাকে বা নাতি/নাতনীর পোশাকটা খুব বেশি মার্জিত না হয়, কিছু বলার দরকার নেই।

image source: www.liveabout.com

কিছু বললে তাতে স্রেফ অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হবে। ছেলের স্ত্রী নিজেকে ছোট ভাবতে শুরু করবে, তার মনে হবে সে আপনার সাথে তাল মেলাতে পারছে না বা সে আপনার মনের মতো নয়।

বিয়ের আগে সন্তানের সাথে যেমন সম্পর্ক ছিল, সেটা বিয়ের পরেও আশা করা

যখন আপনার সন্তান বিয়ে করে, তখন সেটা সবার জন্য ব্যাপক পরিবর্তন নিয়ে আসে। সন্তান তখন নতুন জীবনসঙ্গীর সাথে নিজেকে মানিয়ে নেয়ার চেষ্টা করতে থাকে, জীবনযাপনে নতুনত্ব আসে এবং তারা তাদের এই নতুন সম্পর্কের প্রতি মনোযোগী হয়।

Senior Mother Interferring With Couple Having Argument At Home

image source: www.babble.com

এতে প্রাথমিকভাবে মনে হতে পারে, বিয়ের পর তারা আপনার সাথে দূরত্ব তৈরি করছে। ব্যাপারটা স্বাভাবিক। বিয়ের আগে আপনার সন্তানের সাথে যে সম্পর্ক ছিল, বিয়ের পর আর তেমন থাকবে না। তাই সাত-পাঁচ না ভেবে পরিবারে আগত নতুন সদস্যকে আপন করে নেয়ার চেষ্টা করুন এবং খুশি মনে তাদের বিবাহিত জীবন বেড়ে উঠতে দেখুন, উপভোগ করুন।

পক্ষ নেয়া

কারো পক্ষ নেয়া থেকে একদম বিরত থাকুন। কারো পক্ষ নেয়া বলতে আপনার সন্তান যখন তার জীবনসঙ্গীর সাথে কোনোকিছু নিয়ে তর্কে লিপ্ত হয়, তখনকার কথা বলা হচ্ছে। সন্তান যখন তার দাম্পত্য সঙ্গীর সাথে বাকযুদ্ধে নামবে তখন শ্বাশুড়ি হিসেবে আপনার প্রধান কর্তব্য সেখানে নাক না গলানো।

image source: http://worldtranslation.org

ঝগড়ার পরে কেউ যদি কান্না করে তখন আপনি তাকে কাঁদার জন্য নিজের কাঁধটা এগিয়ে দিতে পারেন, চুপচাপ কথা শুনতে পারেন কিংবা (যদি তাদের কেউ চায়) তাহলে উপদেশও দিতে পারেন কিন্তু কখনো কারো পক্ষ নেবেন না। কখনো বলবেন না, কে সঠিক আর কে ভুল। আপনার সন্তান যদি বলতে বলে, তবুও এড়িয়ে যাবেন। মুখ খুললে পরে পস্তাতে হতে পারে।

ঘটনার সময় উত্তেজনাবশতঃ বেফাঁস কিছু যদি বলে ফেলেন পরবর্তীতে সেটা কিন্তু আর ফিরিয়ে নিতে পারবেন না। আপনার সন্তান হয়তো আপনাকে সহজেই ক্ষমা করে সামনে এগিয়ে যাবে কিন্তু তাদের জীবনসঙ্গীটির জন্য কাজটি মোটেও সহজ নয়।

সীমা অতিক্রম

কখনো কখনো আপনার বিবাহিত সন্তানের আপনাকে প্রয়োজন পড়ে। তারা বিয়ে করছে বলে আপনার সন্তানের খাতা থেকে তাদের নাম নিশ্চয়ই কেটে যায়নি, কিন্তু কিছু সীমা রয়েছে যেগুলো আপনার অতিক্রম করা উচিত নয়।

আপনার চোখের সামনে কিছু ঘটতে দেখলে, নিজেই জিজ্ঞেস করুন, বিষয়টা আদৌ উল্লেখ করার মতো কিনা। সেটা কি আসলেই গুরুত্ব রাখে? বিষয়টা কি এতটাই বড়, যার কারণে আপনি আপনার সন্তান ও তার জীবনসঙ্গীর সাথে নিজের সম্পর্কটিকে ঝুঁকির মুখে ঠেলে দেবেন? প্রথমে তা ভেবে নেবেন।

image source: www.odhikar.news

পুত্রবধূ যেভাবে তোয়ালে ভাঁজ করে সেটা কি খুব বেশি গুরুত্বপূর্ণ? কিংবা জামাতা শখ করে কোনো রেসিপি রান্না করেছে সেটার ঘ্রাণ আরো একটু ভাল হতে পারতো? আপনি যদি একবার সীমা অতিক্রম করে ফেলেন, আর পেছনে ফিরতে পারবেন না।

অনেকে তাদের শ্বাশুড়িদের সাথে দারুণ সম্পর্ক রাখে, অনায়াসে তাদের মনের কথা শ্বাশুড়িদের সাথে শেয়ার করতে পারে, কিন্তু সবাই তো একরকম নয়। তাই সাবধান।

ছুটিগুলো একসাথে কাটাবেন বলে আশা করা

যখন আপনার সন্তান বিয়ে করে তখন সে দুই জোড়া বাবা-মা পায়। এক জোড়া তার নিজের বাবা-মা, আর অন্য জোড়া হচ্ছে তার শ্বশুর-শ্বাশুড়ি। আপনার সন্তানের যদি নিজের বাচ্চা থাকে তাহলে বলা যায় তার নিজেরও একটি ছোট্ট পরিবার হয়ে গেছে।

আপনার সন্তান কেন ঈদ, পূজো, ক্রিসমাস আপনার সাথে উদযাপন না করে শ্বশুর বাড়িতে গেল বা নিজের পরিবারের সাথে সময় কাটাল কেন, এটা নিয়ে যদি আপনি হতাশাগ্রস্থ হয়ে পড়েন তাহলে তো সমস্যা।

image source: wral.com

আপনাকে বুঝতে হবে, তারা আপনাকে কোনো আঘাত করার চেষ্টা করছে না। আপনাকে এসব মেনে নেওয়া শিখতে হবে। ছুটির দিন নয়, বরং অন্য কোনো দিন কী করে আপনি আপনার সন্তানের সাথে কাটাতে পারবেন সেই প্ল্যান করুন।

সন্তানের জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে সন্তানের কাছে নিন্দা করা

আপনার সন্তান তার জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে আপনার কাছে নেতিবাচক কথা বলছে মানে এই নয় যে, আপনিও তার জীবনসঙ্গীর ব্যাপারে বাজে কথা বলতে পারবেন। যদি বিষয়টা আপনার সন্তানের দাম্পত্য সঙ্গী জানতে পারে তাহলে আপনার সাথে তার সম্পর্ক কিন্তু নষ্ট হয়ে যাবে। আপনার নিজে সন্তানও অপনার নেতিবাচক কথায় রুষ্ট হতে পারে, কষ্ট পেতে পারে, সরে যেতে পারে আপনার কাছ থেকে।

image source: samakal.com

সন্তানের সাথে আপনার ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে সে ব্যাপারে অত্যন্ত গুরুত্ব রাখে সন্তানের জীবনসঙ্গীর সাথে ভাল সম্পর্ক রাখাটা। আপনি হয়তো তাদের বেস্ট ফ্রেন্ড হতে পারবেন না কিন্তু এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ যে, আপনি তাদের সাপোর্ট করছেন, ভালবাসছেন এবং নিজের পরিবারে ওদেরকে পেয়ে আপনি আনন্দিত।

Featured Image: www.nssga.org


Sayeem Shams

এখানে মূলত মাতব্বরি করি। অন্যের লেখার ভুল ধরি আর সেগুলো ঠিক করে দেয়ার চেষ্টা করি। যদিও নিজের লেখায় থাকা ভুলগুলো কেন যেন চোখে পড়ে না। মানুষ বোধহয় এমনই হয়। অন্যের ভুল তাদের খুব চোখে পড়ে নিজেরটা পড়ে না।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: Parenting

DON'T MISS