আপনার সন্তানের কি ওজন কম? জানুন, কীভাবে ওজন বাড়াবেন


বয়স ও উচ্চতা অনুযায়ী যদি ওজন সঠিক না থাকে তাহলে অভিভাবক ভাবনায় পড়ে যান। ভাবনায় পড়ে যাওয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। ওজন অতিরিক্ত কম থাকলে শিশু দুর্বল হয়ে যায়, পুষ্টিহীনতায় ভোগে এবং মেজাজ খিটখিটে থাকে। অনেক সময় স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম খাবার খেলে শিশু পুষ্টিহীনতায় ভোগে। শৈশব ও কৈশোরে অনেকের খাদ্যভ্যাস ভিন্ন থাকে। পর্যাপ্ত পরিমাণের ভিটামিন সমৃদ্ধ খাবার না খেলে শিশু কিশোরদের পুষ্টির অভাব থাকাটা স্বাভাবিক।

কম ওজনের কিশোরী; Source: Freepik

অনেকে ওজন বাড়াতে গিয়ে চর্বি জাতীয় এবং ফাস্টফুড জাতীয় সব খাবার বেশি করে খায়। ফাস্টফুড জাতীয় খাবার ও তৈলাক্ত খাবার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এসব খাবার শরীরকে মেদবহুল করে তোলে, যা স্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তবে আপনার সন্তানকে যদি স্বাস্থ্যকর ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার বেশি খাওয়ান তাহলে তাদের শক্তি বৃদ্ধি পাবে। সেই সাথে ক্যালরি বহুল খাবার খেলে ওজনও বৃদ্ধি পাবে। মোটকথা, সঠিক সময়ে সঠিক খাবার খেলে আপনার সন্তান স্বাস্থ্যবান হয়ে উঠবে।

কিশোর কিশোরীদের জন্য আদর্শ ওজন

একজন কিশোর কিশোরীর ওজন হওয়া উচিত উচ্চতার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। যাদের পাঁচ ফিট এক কিংবা তার চেয়ে কম হাইট তাদের ওজন থাকা উচিত ৪৫ থেকে ৫০ কেজির মধ্যে। যাদের উচ্চতা আরো বেশি সেই অনুসারে আদর্শ মাপ ধরতে হয়। কৈশোরে ওজন কম থাকা ভালো।

ওজন মাপা; Source: Obesity Coverage

তবে অতিরিক্ত কম থাকা উচিত নয়। ওজন অতিরিক্ত কম থাকলে অভিভাবকরা সন্তানকে নিয়ে চিন্তিত হয়ে যায়। তার কোনো রোগ বা অসুখ হয়েছে কিনা তা নিয়ে চিন্তায় পড়ে যায়। কৈশোরে নানা কারণে ওজন কম থাকে যেমন : পড়াশুনার চাপ, স্ট্রেস, খেলাধুলা ও দৌড়াদৌড়ি ইত্যাদি।

আবার অনেকের ওজন কৈশোরে বেশি থাকে। তাদের উচিত সকল প্রকার চর্বি জাতীয় ও তৈলাক্ত খাবার বর্জন করে স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খাওয়া। কেননা স্বাস্থ্যকর খাবার দেহকে সুস্থ রাখে। পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবার খেলে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে, স্বাস্থ্য ভালো থাকে এবং মস্তিষ্কের উন্নতি ঘটে।

কম ওজন থাকার প্রভাব

ওজন বেশি থাকা যেমন ভয়ঙ্কর তেমনই ওজন কম থাকাও দুশ্চিন্তাজনক। ওজন স্বাভাবিকের তুলনায় কম থাকলে সন্তান যেকোনো সময় রোগাক্রান্ত হতে পারে। ওজন কম থাকলে কিশোর কিশোরীদের যেসব সমস্যা হয় সেগুলো নিচে দেয়া হলো।

ক্লান্তি ও দুর্বলতা

অতিরিক্ত কম ওজনের বাচ্চারা সারাক্ষণ দুর্বলতাবোধ করে। তাদের শরীর অল্পতে ক্লান্ত হয়ে যায়। অল্প পরিশ্রমে তারা বেশি ক্লান্ত হয়ে যায় এবং দুর্বলতা অনুভব করে।

ক্লান্ত কিশোরী; Source:Daily Express

তাছাড়া ওজন কম থাকলে ইমিউন সিস্টেমও দূর্বল হয়। যার ফলে রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি থাকে।

দুর্বল ইমিউন সিস্টেম

অতিরিক্ত কম ওজনের কিশোর কিশোরীদের ইমিউন সিস্টেম খুব দুর্বল থাকে। যার ফলে তারা সাধারণ কিছু হলে বেশি অসুস্থ হয়ে যায়। সর্দি, কাশি, ফ্লু ইত্যাদি তাদের পিছু ছাড়ে না। তাই এসব কিছুর হাত থেকে বাঁচতে হলে অবশ্যই ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে হবে। পুষ্টিকর ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার খেতে হবে।

ভঙ্গুর হাড়

যেসব মানুষের ওজন অনেক কম থাকে তাদের শরীরে ভিটামিন, মিনারেলস, ক্যালসিয়ামের অভাব থাকে। হাড় গঠনের জন্য ক্যালসিয়াম খুব গুরুত্বপূর্ণ। যাদের ওজন কম এবং যারা ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করে না তাদের হাড় খুব দুর্বল থাকে। তাদের শরীরে ক্যালসিয়ামের অভাব থাকে।

রক্তশূন্যতা

রক্তশূন্যতা হয় লৌহ জাতীয় খাবারের অভাবে। রক্তশূন্যতা হলে শিশু কিশোরেরা অসুস্থ হয়ে যায়। মানুষের শরীরে সঠিক পরিমাণের রক্ত থাকতে হয়।

রক্তকণিকা; Source: GoNews24.com

নয়তো তারা অসুস্থ হয়ে যাবে। রক্তশূন্যতা হলে হার্টে অক্সিজেন পৌঁছায় না। দীর্ঘদিন ধরে রক্তশূন্যতায় ভুগলে যেকোনো সময় স্ট্রোক হতে পারে।

উর্বরতা শক্তি

যেসব মেয়েদের শরীরে রক্তশূন্যতা রয়েছে তাদের উর্বরতা শক্তি কমে যায়। কারণ তাদের ঋতুচক্রের সময় সঠিক থাকে না। শরীরে রক্ত না থাকলে অনেক মেয়েরা গর্ভধারণও করতে পারে না।

ওজন বাড়ানোর কার্যকর উপায়

ওজন কম থাকা স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। কারণ কম ওজন অনেকগুলো সমস্যা ডেকে আনে। তাই ওজন স্বাভাবিক থাকা উচিত। তাই আপনার সন্তানের ওজন কম থাকলে যেভাবে তার ওজন বাড়াবেন সেগুলো নিজে দেয়া হলো।

ক্যালরিযুক্ত খাদ্য

আপনার সন্তানকে রোজ ক্যালরিবহুল খাদ্য খেতে দিন। সে হয়তো খাদ্যাভ্যাস নিয়ে সচেতন নয়। তবে আপনি এ ব্যাপারে সর্বদা তৎপর ও সচেতন থাকুন। আপনার সন্তান প্রতিদিন যে পরিমাণ ক্যালরি খরচ করে তারচেয়ে বেশি পরিমাণের ক্যালরিযুক্ত খাবার খেতে দিন।

প্রোটিন সমৃদ্ধ খাদ্য

সুস্থ ও সুন্দর থাকতে হলে প্রোটিনের বিকল্প নেই। শরীরে প্রোটিনের অভাব হলে চুল পড়ে যায়, ত্বক ভালো থাকে না, নখ ভেঙ্গে যায়, মস্তিষ্ক ভোঁতা হয়ে যায়।

উচ্চ প্রোটিন জাতীয় খাবার; Source: Nuts.com

তাই আপনার সন্তানকে প্রোটিন সমৃদ্ধ খাবার যেমন : ডিম, দুধ, শিমের বিচি, ডাল ইত্যাদি খেতে দিন। ওজন বাড়াতে হলে ক্যালরিযুক্ত খাবারের পাশাপাশি সঠিক পরিমাণে প্রোটিন জাতীয় খাবার খেতে দিন।

সকালের খাবার

ওজন বাড়াতে হলে কোনো এক বেলার খাবার খাওয়া বন্ধ করা যাবে না। প্রতিবেলা নির্দিষ্ট সময়ে খেতে হবে। আপনি আপনার সন্তানকে অবশ্যই সকালের খাবার খাইয়ে স্কুলে পাঠাবেন। নয়তো সে ধীরে ধীরে দুর্বল হয়ে যাবে।

তুলনামূলক বেশি খাবার

ওজন বাড়াতে হলে প্রতিবেলার খাবারের পাশাপাশি আরো দুইবার স্ন্যাকস জাতীয় কিছু খেতে হবে। স্বাস্থ্যকর খাবার দেহের জন্য ভালো। তাই সন্তানকে তুলনামূলক বেশি খাবার খেতে দিন এবং স্বাস্থ্যকর খাবার খেতে দিন। রাতের খাবার খাওয়ার পর যদি অনেকক্ষণ জেগে থাকে তাহলে ঘুমের আগে অবশ্যই তাকে হালকা কিছু খেয়ে ঘুমানোর পরামর্শ দিন।

দুধ ও দুগ্ধ জাতীয় খাবার

দুধ ও দুগ্ধজাতীয় খাবারে প্রচুর স্বাস্থ্যকর চর্বি থাকে। তাই সন্তানকে তা খেতে দিন। তাছাড়া পুডিং, ক্ষীর, পায়েস, কোটাজ চিজ খেতে দিন।

Featured Image Source: Obesity Coverage

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগে অধ্যয়নরত । রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসে। নিয়মিত লিখে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: লাইফস্টাইল

DON'T MISS