গর্ভধারণের সঠিক বয়স কোনটি


পরিবার গঠন করা এবং সারা জীবনের জন্য জীবন সঙ্গী নির্বাচন করা সত্যিকার অর্থে অনেক কঠিন কাজ। তাই জীবনসঙ্গী নির্বাচনে সচেতন হওয়া উচিত। একজন সঠিক ও দায়িত্বজ্ঞান সম্পন্ন জীবনসঙ্গী পাওয়া সত্যিই ভাগ্যের ব্যাপার। সঠিক মানুষটি জীবনে আসলেও সন্তান জন্মদানের জন্য মানসিক স্থিতিশীলতার পাশাপাশি প্রয়োজন অর্থনৈতিক স্বনির্ভরশীলতা। সন্তান জন্মদানের সঠিক বয়স রয়েছে। অতিরিক্ত অল্প বয়স কিংবা অধিক বয়সে সন্তান নিলে নানা শারীরিক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়।

সন্তান জন্মদানের সঠিক বয়স

গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত সময় হলো সে সময় যখন একজন মেয়ে মনে করে শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিকভাবে সে সন্তান জন্মদানের জন্য উপযুক্ত। কারণ মানসিকভাবে স্থিতিশীল না হলে সন্তান জন্মদান করা যায় না। সেই সাথে থাকতে হয় অর্থনৈতিক সুবিধা।

গর্ভধারণ; Source: Medical News Today

কারণ সন্তান জন্মদানের সাথে আরো অনেকগুলো বিষয় জড়িত। গর্ভধারণের বিষয়টি নির্ভর করে মায়ের শারীরিক ও মানসিক অবস্থার উপর। তবুও  বিশ বছর বয়স থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত বয়সকে গর্ভধারণের জন্য উপযুক্ত হিসেবে ধরা হয়।

 বিশ বছর বয়স থেকে পঁয়ত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত মেয়েদের,

  • শারীরিক পরিপূর্ণতা থাকে।
  • এই বয়সের মেয়েরা গর্ভধারণ করলে গর্ভপাতের ভয় থাকে না, প্রিক্ল্যাম্পশিয়ার ভয় থাকে না।
  • তারা শারীরিকভাবে স্বাস্থ্যবান থাকে এবং এই বয়সের মেয়েদের উর্বরতা শক্তি ভালো থাকে।
  • তারা একাধিকবার গর্ভধারণ করতে পারে।

কোনো কোনো অভিভাবক মনে করেন বিশ বছর বা তার কাছাকাছি সময়ে গর্ভধারণ করা উত্তম। তাহলে সন্তান জন্মদান, লালন পালন করা সহজ হয়। পরিবারভেদে এই সিদ্ধান্তগুলো ভিন্ন হয়।

দেরি করে সন্তান নেওয়ার সুবিধা

কারো কারো মতামত ও অভিব্যক্তি ভিন্ন। তারা মনে করেন দেরি করে সন্তান জন্মদান করা ভালো। কারণ মায়ের মানসিক পরিপক্কতা, অর্থনৈতিক পরিপক্কতা লাভ হয়। তাছাড়া পরিবার গঠন করে তা দক্ষতার সাথে চালানোর মতো সক্ষমতা অর্জিত হয়। তাছাড়া মায়ের শারীরিক অবস্থা ভালো থাকলে সুস্থ শিশু জন্মলাভ করে, মায়ের পুষ্টির চাহিদা না থাকলে বা মায়ের শরীরে সঠিক পুষ্টি থাকলে সন্তান সুস্থ থাকে।

মা ও শিশু; Source: lovesutras.com

তাই অল্প বয়সে সন্তান না নিয়ে একটু দেরি করে সন্তান নেওয়া ভালো। তাহলে নিজের জীবনের উপর সক্ষমতা অর্জিত হয়। তাছাড়া অল্প বয়সে বাচ্চা নিলে দেখা যায় গর্ভপাতের ঝুঁকি বেশি থাকে, সন্তানের অধিক পুষ্টিচাহিদা দেখা দেয় এবং সন্তান নানা রোগে ভোগে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে মায়েদের আবেগীয় প্রবণতাও নিয়ন্ত্রণে চলে আসে। যার ফলে দেরি করে বাচ্চা নিলে মায়েদের আবেগের গাঢ়তা কমে।

অল্প বয়সে বাচ্চা নেওয়ার কারণ

ধর্মীয় ফতোয়া ও সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গীর কারণে কোনো কোনো পরিবার মনে করে অল্প বয়সে বাচ্চা নিলে ভালো হবে। বাবা মা ও সন্তানের বয়সের পার্থক্য কম হবে। সন্তানকে লালন পালন ও পড়াশুনা শিখিয়ে তারা মৃত্যুবরণ করতে পারবে।

গর্ভকালীন অসুস্থতা; Source: Mothers & More

তাছাড়া তারা ভাবে একাধিক বাচ্চা নেওয়ার আরো অনেক সময় পাওয়া যাবে এবং সন্তানকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারলে অভিভাবক কাজ থেকে দ্রুত অব্যাহতি নিতে পারবে। পরিবার ভেদে মানসিকতা ও সিদ্ধান্তের মাঝে বেশ পার্থক্য দেখা যায়। তবে আপনি সন্তান কখন ও কোন বয়সে নেবেন তা একান্তই আপনার ব্যক্তিগত ইচ্ছা ও স্বনির্ভরশীলতার উপর নির্ভর করবে।

বিশ বছর বয়সের আগে সন্তান জন্মদান

মায়ের বয়স যদি বিশ বছরের কম হয় তাহলে সন্তান জন্মদান করা ঝুঁকিপূর্ণ হয়। এ বয়সে শারীরিক ও মানসিক পরিপূর্ণতা লাভ হয় না। এ বয়সে সন্তান জন্ম দিতে গিয়ে অনেক মায়ের মৃত্যু ঘটে। এটি খুব ঝুঁকিপূর্ণ। তাছাড়া সন্তান নানা পুষ্টিহীনতায় ভোগে। বিশ বছর বয়সের আগে সন্তান জন্ম দিলে বা গর্ভধারণের পরিকল্পনা করলে গর্ভপাত ঘটে, নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়, মূত্রনালীর সংক্রমণ হয় এবং সন্তান অপরিপক্ক হয়। তাছাড়া অল্প বয়সে সন্তান জন্ম দিলে তাকে লালন পালন করতে গিয়ে বাবা মাকে আর্থিক সমস্যায় পড়তে হয়।

বিশ বছর বয়স থেকে চব্বিশ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তান জন্মদান

এ সময়ে সন্তান জন্মদানকে উপযুক্ত বলে ধরা হয়। এ সময়ে মায়েদের উর্বরতাশক্তি ভালো থাকে। এ বয়সে বাচ্চা নিলে সন্তান সুস্বাস্থ্যের অধিকারী হয় এবং মায়ের আবেগীয় অবস্থা নিয়ন্ত্রণে থাকে।

গর্ভবতী মায়ের খাওয়া দাওয়া; Source: womenshealthyblog.blogspot.com

গর্ভকালীন অবস্থায় যেকোনো প্রতিকূলতা এড়ানোর জন্য এ বয়সের মেয়েরা মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকে। তারা সঠিক শিক্ষা দীক্ষার অধিকারী হলে নিজের ও সন্তানের জন্য উপযুক্ত খাবার, ওজন মাপা, টিকা সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সম্পর্কে সচেতন থাকে। সার্বিক বিষয় সুন্দর ভাবে সামলাতে পারে।

পঁচিশ থেকে ঊনত্রিশ বছর বয়সে গর্ভধারণ

এ সময়ে সন্তান জন্মদান করা ভালো। মেয়েদের উর্বরতা শক্তি ভালো থাকার পাশাপাশি মানসিক পরিপক্কতা থাকে। তবে ত্রিশোর্ধ্ব বয়সের মায়েদের উর্বরতাশক্তি দিনকে দিন কমতে থাকে। পঁচিশ থেকে ঊনত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত সন্তান জন্মদান করা উত্তম। এ বয়সে অভিভাবকের অর্থনৈতিক সমস্যাও থাকে না।

ত্রিশ বছর বয়স থেকে চৌত্রিশ বছর বয়স পর্যন্ত গর্ভধারণ

ত্রিশোর্ধ্ব বয়সী নারীদের গর্ভধারণ করা ঝুঁকিপূর্ণ। ত্রিশোর্ধ্ব বয়সে গর্ভধারণ করলে শারীরিক নানা জটিলতার সম্মুখীন হতে হয়। এ সময়ে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়, উচ্চ রক্তচাপের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তবে এ সময়ে অভিভাবকেরা আবেগীয় দিক থেকে স্থির থাকে এবং সন্তানের প্রতি অধিক যত্নশীল থাকে।

পঁয়ত্রিশ থেকে ঊনচল্লিশ বছর বয়সে গর্ভধারণ

পঁয়ত্রিশ বছর বয়সের পর প্রজনন ক্ষমতা কমে যায়। গর্ভপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়, শারীরিক নানা জটিলতা সৃষ্টি হয়। এ বয়সে গর্ভধারণ না করা ভালো। তবে আপনি যখনই গর্ভধারণ করতে চান না কেন চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

গর্ভধারণ পরীক্ষা; Source: Refinery29

চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কার্যক্রম চালালে ঝুঁকির হাত থেকে রেহায় পাওয়া যাবে।

Featured Image Source: Free Online Thesaurus

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগে অধ্যয়নরত । রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসে। নিয়মিত লিখে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: Parenting

DON'T MISS