পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে যেভাবে ব্যায়াম করবেন


স্বাস্থ্যই সকল সুখের মূল, এই মহামূল্যবান কথাটি আপনিও জানেন। তাই একসময় আপনি নিয়মিত ব্যায়াম করতেন, স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ব্যাপারে সব সময় তৎপর থাকতেন। কিন্তু এখন তা আর হয়ে ওঠে না। সন্তান হওয়ার পর ব্যায়াম করার জন্য আলাদা সময় বের করা আপনার জন্য বেশ কঠিন।

Source: Inhabitat

তাছাড়া সন্তানকে নিয়ে সারাদিন এত ব্যস্ত থাকতে হয় যে আপনি প্রায়ই ক্লান্ত হয়ে পড়েন, তাই আলাদা করে ব্যায়াম করার সুযোগ হয় না। অথবা কর্মজীবনে প্রবেশ করার পর এমন চাকরি সময়সূচি আপনি অনুসরণ করেন যে ব্যায়াম করার সময় বের করা যায় না। অথবা সামগ্রিকভাবে জীবন, কাজ এবং সংসার নিয়ে এত ব্যস্ত থাকেন যে ব্যায়ামের কথা ভাবার অবকাশ পান না।

যে কারনেই আপনি ব্যায়াম করা ছেড়ে দিয়ে থাকেন না কেন এখনই উপযুক্ত সময় আবার শুরু করার। এমনকি যদি আপনার দৈনন্দিন দীর্ঘ কর্মতালিকা থাকে, সন্তান থাকে, অথবা সংসার নিয়ে খুব ব্যস্ত হয়ে থাকেন তবুও নতুন করে আবার শুরু করতে পারেন, এবং আগের মত স্বাস্থ্য ঠিক করতে পারেন। যে পারিবারিক জীবনকে আপনি ব্যায়াম করার অন্তরায় হিসেবে দেখছেন সেই পারিবারিক জীবনই হতে পারে ব্যায়াম করার এবং সুস্থ থাকার প্রধান সহযোগী। কিন্তু কিভাবে? চলুন বিষয়গুলো স্পষ্ট করার চেষ্টা করি।

সময়সূচি তৈরি করুন

সংসার জীবন শুরু করার পর কোনো কিছুই আর আগের মতো থাকে না। তাই পূর্বের সব নিয়মনীতি নতুন করে ঢেলে সাজাতে হয়। কিন্তু সন্তান জন্মের পরও মানুষ আগের মতো করে সব কিছু চিন্তা করে। তাই দৈনন্দিন সব কাজ শেষ করতে গিয়ে আলাদা করে ব্যায়াম করার কোনো সময বের করতে পারে না।

Source: Family Education

সুতরাং সন্তান জন্মের পর নিয়মিত ব্যায়াম করে শরীর ঠিক রাখতে হলে আপনাকে নতুন সময়সূচী নির্বাচন করতে হবে। সন্তানকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া, দৈনন্দিন কেনাকাটা করা, বিভিন্ন জনের সাথে সাক্ষাৎ করা, নির্দিষ্ট কর্মঘন্টা অনুযায়ী কাজ করা, সন্তানের স্কুল পরবর্তী প্রস্তুতি নেওয়া, এই সবকিছু মনোযোগের কেন্দ্রে রাখলে আপনি কখনোই ব্যায়াম করার সময় পাবেন না। সুতরাং আপনাকে এই সবগুলো কাজের মতোই ব্যায়ামকে গুরুত্বপূর্ণ কাজের তালিকায় রাখতে হবে এবং দিনের মধ্যে নির্দিষ্ট একটি সময় নির্বাচন করতে হবে।

মনে রাখবেন আপনি যতক্ষণ না পর্যন্ত কোনো বিষয়কে গুরুত্বপূর্ণ করে তুলবেন ততক্ষণ তা গুরুত্বপূর্ণ হবে না। কম সময়ের জন্য হলেও দৈনন্দিন কর্ম তালিকায় ব্যায়াম যুক্ত করুন। তারপর সন্তান ও পরিবারের সদস্যদের তা অবহিত করুন। আপনার সন্তান এবং পরিবারের সদস্যরা আপনার ব্যায়াম করার সময়সূচি জানলে তখন তারা অন্য কোনো কাজের পরিকল্পনা করবে না।

কাজটি আরও সহজ করতে দৈনন্দিন কর্মতালিকার একটি ক্যালেন্ডার ব্যবহার করুন। আপনি চাইলে এ সম্পর্কিত বিভিন্ন অ্যাপস ডাউনলোড করে নিতে পারেন।

পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ব্যায়াম

আপনি চাইলে পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়েও ব্যায়ামের পরিকল্পনা করতে পারেন। অনেক পরিবারের সদস্যরা এভাবে ব্যায়াম করতে আগ্রহী হয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যা হলো সবাই একসাথে সময় করতে পারে না। এক্ষেত্রে পরিবারের সব সদস্যকে ব্যায়ামের গুরুত্ব উপলব্ধি করতে হবে এবং প্রতিদিন সকালে নাস্তা, দুপুরে লাঞ্চ বা রাতে ডিনার টেবিলে বসার মতো নিয়ম করে দিনের নির্দিষ্ট সময়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে ব্যায়াম করতে হবে। তাতে শুধু আপনি একা নয়, পরিবারের সব সদস্যের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হবে।

Source: Today’s Parent

প্রয়োজনে ব্যায়ামের কিছু হালকা সামগ্রী বাড়িতে কিনে নিতে পারেন। কেননা পরিবারের সব সদস্য কোনো ব্যায়ামাগারে গিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করলে যে মাসিক চাঁদা দিতে হবে তা একত্র করলেই প্রতি মাসে কিছু না কিছু ব্যায়ামের সামগ্রী কেনা সম্ভব। এভাবে কয়েক মাসের প্রচেষ্টায় প্রয়োজনীয় সকল ব্যায়ামের সামগ্রী বাড়িতে কিনে নিন এবং পরিবারের সবাইকে সাথে নিয়ে ব্যায়াম করুন।

আনন্দময় করে তুলুন

শিশুদের সাথে নিয়ে ব্যায়াম করতে বিষয়টি আনন্দময় করে তুলুন। ব্যায়াম করার সময় পছন্দের কোনো গান শুনতে পারেন। এমনকি শিশুকে সাথে নিয়ে চমৎকার কোনো নাচের মুদ্রা অনুশীলন করতে পারেন। শারীরিক ব্যায়াম নিশ্চিত হয় এমন কোনো খেলার আয়োজন করতে পারেন। তাতে ব্যায়ামের সাথে সাথে শিশুর সৃজনশীলতার বিকাশ হবে।

সময়ের সদ্ব্যবহার করুন

শিশুদের সাথে নিয়ে ব্যায়াম করলে একসাথে দুটি চমৎকার ঘটনা ঘটে। এক শিশুদের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত হয়, দুই ক্লাসের ব্যস্ততার বাইরে সন্তানদের সাথে কিছুটা সময় আনন্দে কাটানো যায়। তাই এই সময়ের সদ্ব্যবহার করুন। ব্যায়ামের অংশ হিসেবে হাঁটা বা দৌড়ানোর জন্য চমৎকার কোনো জায়গা বেছে নিন।

Source: Two Bright Lights: blog

হাঁটতে হাঁটতে শিশুর সাথে পরিবার এবং জীবন নিয়ে বিভিন্ন কথা শেয়ার করতে পারেন। তাতে শিশুর শরীর সুগঠিত হওয়ার সাথে সাথে আত্মবিশ্বাসও বৃদ্ধি পাবে। স্কুলে আপনার সন্তানের কেমন দিন কাটল এ ব্যাপারে তাকে জিজ্ঞেস করতে পারেন। তার বিশেষ কোনো কিছু প্রয়োজন কিনা তাও জিজ্ঞেস করতে পারেন। একসাথে হাঁটতে বের হলে সন্তানের সাথে এই আলাপচারিতা আপনাদের মধ্যে চমৎকার বন্ধুত্ব সৃষ্টি করবে, যা পিতামাতার সাথে সন্তানের সম্পর্ক দৃড় করবে।

নিজের এবং পরিবারের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে এভাবে সবাইকে সাথে নিয়ে নিয়মিত ব্যায়াম করলে সন্তানদের মধ্যে নিয়মিত ব্যায়াম করার অভ্যাস সৃষ্টি হবে। যা পরবর্তী জীবনে তাদের আরও স্বাস্থ্য সচেতন করে তুলবে। এমনকি পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতবিরোধ এবং প্রতিযোগিতা প্রবণতা দূর হবে।

Source: She knows

সুতরাং আপনি যদি সংসারের ব্যস্ততার অজুহাত দেখিয়ে ব্যায়াম করা ছেড়ে দিয়ে থাকেন, তবে আজই পরিবারের সদস্যদের সাথে নিয়ে নতুনভাবে ব্যায়াম করা শুরু করুন এবং পরিবারের সবার সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করুন।

Feature Image: Family Education

মোস্তাফিজুর রহমান
তরুণ কথাসাহিত্যিক, কলামিস্ট এবং সাংবাদিক মোস্তাফিজুর রহমানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলা যশোরে। পৈতৃক নিবাস যশোরের সদর থানার খোজারহাট গ্রামে। বাবা-মায়ের তিন সন্তানের মধ্যে মোস্তাফিজুর রহমান সবার বড়। লেখাপড়া করেছেন যশোরের খোজারহাট মাধ্যামিক বিদ্যালয়, ছাতিয়ানতলা চুড়ামনকাঠি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ডা: আব্দুর রাজ্জাক মিউনিসিপ্যাল কলেজ এবং ঢাকার ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে। বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার প্রকৌশল নিয়ে পড়াশোনা করলেও আত্মনিয়োগ করেছেন সাহিত্য সাধনা এবং সাংবাদিকতায়। শিল্প-সাহিত্যের প্রতি তীব্র অনুরাগী মোস্তাফিজুর রহমান স্কুল জীবন থেকেই লেখালেখি করেন। বাংলাদেশ ও কলকাতার সাহিত্য পত্রিকা, দৈনিক এবং ম্যাগাজিনে লিখে থাকেন। এছাড়া জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়ে দৈনিক পত্রিকায় কলাম লেখেন নিয়মিত। ২০০৯ সাল থেকে সাংবাদিকতার সাথে জড়িত, একটি অনলাইন পত্রিকা সম্পাদনাসহ কাজ করেছেন বিভিন্ন পত্রিকায়। সাম্প্রতিককালে তারুণ্য, শিল্প-সাহিত্য, চলচ্চিত্র এবং ট্রেন্ডিং বিষয় নিয়ে জনপ্রিয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইউটিউবে আলোচনা করেন। ইউটিউব সহ সকল সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মোস্তাফিজুর রহমানকে @MustafizAuthor ইউজারে খুঁজে পাওয়া যাবে। ২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারিতে তার প্রথম গল্পগ্রন্থ ‘দ্বন্দ ও পথের খেলা’ প্রকাশিত হয়।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: শিশুর যত্ন

DON'T MISS