যেসব লক্ষণ দেখে বুঝবেন গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে


গর্ভাবস্থায় একজন মায়ের আশা ও স্বপ্নের শেষ থাকে না। মা সর্বদা অনাগত সন্তানকে নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। তাকে ঘিরে নানা কল্পনা সাজায়, সাজায় স্বপ্ন। মায়ের কৌতুহলী মনে সারাক্ষণ ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে এমন প্রশ্নের উদয় হতে থাকে।

সন্তান যখন মায়ের গর্ভে থাকে তখন ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে তার বেশ কিছু লক্ষণ বা উপসর্গ দেখা দেয়। কেউ কেউ এই উপসর্গগুলোকে এড়িয়ে যেতে চায়। তবে এগুলো নেহায়েত মিথ্যে নয়। জেনে নিন গর্ভাবস্থায় কন্যা সন্তান থাকার কয়েকটি উপসর্গ সম্পর্কে।

বেশি হৃদস্পন্দন

চিকিৎসকগণ মনে করেন, গর্ভে যদি কন্যা সন্তান থাকে তাহলে তার হৃদস্পন্দন বেশি হবে। সাধারণত হৃদস্পন্দন যদি প্রতি মিনিটে ১৪০-১৬০ বিটসের মধ্যে থাকে তাহলে ধরে নিতে হবে গর্ভে মেয়ে আছে।

উচ্চ নাকি নিম্ন

গর্ভাবস্থায় আপনি যদি মনে করেন গর্ভের সন্তান বেশ ভারি তাহলে বুঝে নিবেন কন্যা সন্তান হবে। চিকিৎসকরা এমনটা বলে থাকেন। যদিও কন্যা সন্তান হবে কিনা তা এক্স-রে করে বের করা যায়। তবুও সাধারণ কিছু বিষয় জানা থাকলে এক্স-রে ছাড়াই জেনে নিতে পারবেন ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে।

তীব্র মর্নিং সিকনেস

একজন মা যখন গর্ভবতী থাকেন তখন অনেক প্রতিকূল সময় পার করেন। কন্যা সন্তান পেটে থাকলে গর্ভবতী মা মর্নিং সিকনেস অনুভব করেন।

মর্নিং সিকনেস; Source: loyolamedicine.org

গবেষকরা মনে করেন, গর্ভে পুত্র সন্তান থাকলে মা যতটা না মর্নিং সিকনেস অনুভব করে তার চেয়ে বেশি অনুভব করে কন্যা সন্তানের বেলায়।

ত্বকে ব্রণ

গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে নানা ধরনের উপসর্গ দেখা যায়। এর মধ্যে একটি হলো মুখে ব্রণ হওয়া।

গর্ভাবস্থায় ত্বকে ব্রণ; Source: FirstCry Parenting

গর্ভবতী মহিলাদের মুখে যদি ব্রণ হয় তাহলে বুঝে নিতে হবে গর্ভে কন্যা সন্তান আছে। হরমোনাল পরিবর্তনের কারণে এমনটা হয়ে থাকে।

পেটের শেপ

গর্ভবতী মায়েদের পেটের শেপ দেখেও বুঝা যায় গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে নাকি পুত্র সন্তান রয়েছে। আপনি যদি দেখেন সন্তান সামনের দিকে রয়েছে তাহলে বুঝবেন পুত্র সন্তান হবে।

গর্ভবতী মা; Source: Times Now

যদি খেয়াল করেন যে সন্তান মধ্যবর্তী স্থানে রয়েছে তাহলে বুঝবেন কন্যা সন্তান রয়েছে। মোট কথা পেটের আকৃতি ও বহন করার স্থান দেখে বোঝা যায় সন্তান কোন লিঙ্গের হবে।

মুড সুইং

গর্ভাবস্থায় প্রচণ্ড রকম মুড সুইং হয়। তবে গর্ভে যদি কন্যা সন্তান থাকে তাহলে আরো বেশি মুড সুইং হয়। হঠাৎ করে মানসিক অবস্থার পরিবর্তন, হতাশা ও বিষণ্ণতায় ভোগা, হঠাৎ করে বিরক্তির উদ্রেগ হওয়া, রেগে যাওয়া ইত্যাদি বেশি হয় হয় গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে। গর্ভে পুত্র সন্তান থাকলে যেমন মানসিক অবস্থা হয় তার চেয়ে অনেক ব্যতিক্রম মানসিক অবস্থা বিরাজ করে কন্যা সন্তান থাকলে।

স্তনের আকার

গর্ভাবস্থায় স্তনের আকার পরিবর্তন দেখেও ছেলে হবে নাকি মেয়ে হবে তা বোঝা যায়। গবেষকরা মনে করেন, গর্ভে যদি কন্যা সন্তান থাকে তাহলে ডান পাশের স্তনের তুলনায় বাঁ পাশের স্তনের আকার বড় হয়। এটি দেখে সহজে অনুমান করা যায় কোন লিঙ্গের সন্তান হবে তা সম্পর্কে।

রসুন পরীক্ষা

রসুন পরীক্ষার মাধ্যমে সহজে জানা যায় গর্ভে কন্যা সন্তান আছে কি নেই। আপনি এক কোয়া রসুন খেয়ে এই পরীক্ষাটি করতে পারেন। রসুন খাওয়ার পর আপনার শরীর থেকে যদি রসুনের গন্ধ না বের হয় তাহলে বুঝবেন আপনার গর্ভে কন্যা সন্তান আছে।

রসুন; Source: Healthline

আর যদি রসুনের গন্ধ বের হয় তাহলে বুঝবেন পুত্র সন্তানের জননী হতে চলছেন।

বেকিং পাউডার পরীক্ষা

একটি গ্লাসে বেকিং পাউডার নিয়ে পরীক্ষা করুন। গ্লাসে বেকিং পাউডার নিয়ে তার সাথে প্রস্রাব যোগ করে পরীক্ষা করে জানা যায় গর্ভে কন্যা সন্তান আছে কিনা। বেকিং পাউডারের সাথে প্রস্রাব যোগ করার পর যদি প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয় তাহলে বুঝবেন গর্ভে পুত্র সন্তান রয়েছে। আর যদি কোনো প্রতিক্রিয়া না হয় তাহলে বুঝবেন আপনার গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে।

চুলের অবস্থা

আপনার গর্ভে যদি কন্যা সন্তান থাকে তাহলে আপনার চুলের উজ্জ্বলতা কমে যাবে, চুল নিস্তেজ হয়ে পড়বে। তবে আপনার চুলের ধরন যদি উজ্জ্বল ও প্রাণবন্ত থাকে তাহলে আপনার পুত্র সন্তান হবে।

মিষ্টির প্রতি আসক্তি

গর্ভাবস্থায় আপনার যদি মিষ্টি জাতীয় খাবার যেমন : চকোলেট, রসগোল্লা, আইসক্রিমের প্রতি বেশি আসক্তি থাকে তাহলে বুঝবেন আপনার গর্ভে কন্যা সন্তান রয়েছে।

আইসক্রিম; Source: www.taste.com.au

কারণ গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে মিষ্টি জাতীয় খাবারের প্রতি আসক্তি জন্মে।

গর্ভাবস্থায় কিছু নিয়ম মেনে চলা প্রয়োজন। গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে আপনি যে খাদ্যাভ্যাস মেনে চলবেন তা হলো-

আপেল এড়িয়ে চলুন

গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে আপেল এড়িয়ে চলুন। আপেল অপেক্ষাকৃত কম অম্লীয়। এটি পুরুষ শুক্রাণুর জন্য বন্ধুত্বপূর্ণ পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে। তাই গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে আপেল না খাওয়া ভালো।

বেশি করে ডিম খান

গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে বেশি করে ডিম খান। কারণ এ সময় ক্যালসিয়াম ও প্রোটিন জাতীয় খাবার খাওয়া খুব প্রয়োজন। তাছাড়া ডিমে রয়েছে প্রচুর পুষ্টি। গর্ভাবস্থায় মা প্রোটিন জাতীয় খাবার খেলে সন্তান সুস্থ থাকবে।

পাতা জাতীয় শাকসবজি

গর্ভাবস্থায় বেশি করে পাতা জাতীয় শাকসবজি গ্রহণ করতে হবে। কারণ পাতা জাতীয় শাকসবজিতে রয়েছে পর্যাপ্ত পরিমাণের ভিটামিন, খনিজ লবণ ও মিনারেলস। সবুজ শাক ও ব্রোকলিতে রয়েছে ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, ভিটামিন এ, সি ও কে।

গর্ভে কন্যা সন্তান থাকলে কলা কম করে খান। দুধ, খাদ্যশস্য, শিমের বিচি, বেরি, বাদাম, টফু, শ্যামন মাছ বেশি করে খান। চর্বি জাতীয় খাবার, বাইরের খাবার, কোমল পানীয় এড়িয়ে চলুন।

Featured image Source: thefrisky.com

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসেন। নিয়মিত লিখছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: Parenting

DON'T MISS