শিশুদের জন্য ভিটামিন সি কতটা গুরুত্বপূর্ণ


ভিটামিন সি হলো মানুষ ও অন্যান্য প্রাণীর জন্য প্রয়োজনীয় পুষ্টিপদার্থ। ভিটামিন সি দ্বারা মূলত একাধিক ভিটামারকে বোঝানো হয় যেগুলো প্রাণীর দেহে ভিটামিন সি এর মতো কাজ করে। এসব ভিটামারের মধ্যে এসকরবিক এসিডসহ বিভিন্ন লবণ ও ডিহাইড্রোএসকরবিক এসিডের মতো কিছু জারিত যৌগ বিদ্যমান। বড়দের পাশাপাশি শিশুদের জন্য ভিটামিন সি প্রয়োজন।

ভিটামিন সি জাতীয় ফল; Source: Dr. Weil

শিশুদের প্রতিদিন ২৫-৪৫ গ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করা উচিত। অবশ্য ভিটামিন সি গ্রহণের এই ব্যাপারটি নির্ভর করে বয়সের ওপর। শিশু যখন সঠিক পরিমাণে ভিটামিন সি গ্রহণ করবে তখন তার ইমিউনিটি সিস্টেমের উন্নতি ঘটবে এবং বৃদ্ধি ত্বরান্বিত হবে। তাই আপনার সন্তানকে রোজ কিছু কিছু ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়ান। তাহলে তার ত্বক থেকে শুরু করে সব কিছু ভালো থাকবে এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

যে কারণে শিশুদের ভিটামিন সি গ্রহণ করা উচিত

ভিটামিন সি এসকরবিক এসিড নামেও পরিচিত। এটি পানিতে দ্রবণীয় ভিটামিন। এর ফলে ভিটামিন সি দেহের মধ্যে সঞ্চিত থাকে না। তাই রোজ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার অল্প করে হলেও খেতে হয়। নয়তো শরীর ও ত্বক ভালো থাকে না।

শিশুদের জন্য ভিটামিন সি এর প্রয়োজনীয়তা

কোলাজেন গঠন

ভিটামিন সি শিশুদের দেহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ভিটামিন সি শিশুদের দেহে কোলাজেন গঠন করে এবং ক্ষত নিরাময়ে সহায়তা করে। হাত, পা কেটে গেলে তা সহজে শুকায় না যদি দেহে ভিটামিন সি এর ঘাটতি থাকে। তাই রোজ আপনার সন্তানকে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে দিন।

সংক্রমণ প্রতিরোধ

ভিটামিন সি অর্থাৎ রোজ টক জাতীয় ফল যেমন : কমলা, জাম্বুরা, পেয়ারা, কামরাঙ্গা, টক বরই ইত্যাদি খেলে সংক্রমণ প্রতিরোধ করা যায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি পায়।

জ্বরে আক্রান্ত শিশু; Source: roswellpark.org

এতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট যা রোগের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সহায়তা করে।

হাড় গঠন

রোজ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেলে হাড় শক্ত হয়। ভিটামিন সি ভঙ্গুর হাড়কে শক্ত ও মজবুত করে। তাই আপনার সন্তানকে ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে দিন।

শিশুর শক্ত ও মজবুত হাড়; Source: Inhabitat

মেনোপোজ পরবর্তী সময়ে যেসকল নারী বেশি করে ভিটামিন সি গ্রহণ করে সেসব নারীদের হাড় অন্যান্যদের তুলনায় শক্ত ও মজবুত থাকে। তাই শিশুকে ভিটামিন সি দেওয়ার পাশাপাশি আপনিও ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খান।

ত্বকের সুস্থতা

ভিটামিন সি এর রয়েছে ত্বক সুস্থ রাখার অসাধারণ ক্ষমতা। নিয়মিত ভিটামিন সি গ্রহণ করলে ত্বকের খসখসে ভাব দূর হবে এবং ত্বক হবে মসৃণ ও সুন্দর।

শিশুর সুস্থ ত্বক; Source: Abbott Nutrition Malaysia

এছাড়া মাথার ত্বক ও চুলের সৌন্দর্যেও এটি ভূমিকা রাখে। ভিটামিন সি এর অভাব হলে ত্বকে কালশীটে দাগ পড়ে এবং ত্বক ও চুল নির্জীব হয়ে পড়ে।

চোখের সুস্থতা

আমরা সবাই জানি ভিটামিন এ চোখের জ্যোতি বাড়ায় এবং চোখ সুস্থ রাখে। জেনে রাখুন চোখের সুস্থতায় ভিটামিন সি ও কাজ করে। ভিটামিন সি চোখের রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে এবং চোখ ভালো রাখে।

বিরক্তিভাব কমায়

ভিটামিন সি জাতীয় খাবার পর্যাপ্ত পরিমাণে খেলে মনোভাব ঠিক থাকে এবং মানসিক অবস্থা ভালো থাকে। ভিটামিন সি এর ঘাটতি দেখা দিলে মেজাজ খিটখিটে হয়ে যায় যার কারণে অন্যান্যদের সাথে রুক্ষ আচরণ করা শুরু করে অনেকে।

দাঁত ও মাড়ির সুস্থতা

ভিটামিন সি দাঁত ও মাড়ির সুস্থতায় কাজ করে। দাঁত থেকে রক্ত পড়া, দাঁত দুর্বল হয়ে যাওয়া, মাড়ি থেকে রক্ত পড়া দূর করতে রোজ শিশুকে ভিটামিন সি খেতে দিন।

ভিটামিন সি কি ঠাণ্ডা, সর্দি, কাশি নিরাময় করে?

ভিটামিন সি কি ঠাণ্ডা, সর্দি ও কাশি নিরাময় করে? এর উত্তরে বলা যায়- হ্যাঁ অথবা না। বয়স ও শিশুভেদে ভিটামিন সি কাজ করে। ভিটামিন সি পুরোপুরি সর্দি কাশি নিরাময় করে না। তবে সর্দি কাশির তীব্রতা কমায়।

শিশুর হাঁচি ও কাশি; Source: Essential Parent

রোজ ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খেতে থাকলে শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আগের তুলনায় বৃদ্ধি পেতে থাকবে এবং সহজে সে ঠান্ডা জ্বরে আক্রান্ত হবে না।

বয়সভেদে ভিটামিন সি গ্রহণের নিয়ম

এক থেকে তিন বছর বয়সী ছেলে ও মেয়ে শিশুদের রোজ পনেরো গ্রাম ভিটামিন সি খাওয়া উচিত। চার থেকে আট বছরের শিশুদের রোজ পঁচিশ গ্রাম ভিটামিন সি গ্রহণ করা উচিত। নয় থেকে তেরো বছরের শিশুদের রোজ পঁয়তাল্লিশ গ্রাম ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত এবং চৌদ্দ থেকে আঠারো বছরের শিশুদের পঁচাত্তর গ্রাম ভিটামিন সি জাতীয় খাবার খাওয়া উচিত। আরো স্পষ্টভাবে জেনে নিন নিম্নোক্ত তালিকা থেকে।

ভিটামিন সি এর উৎস

বিভিন্ন ধরনের টক জাতীয় ফলগুলো ভিটামিন সি এর ভালো উৎস। যেমন জাম্বুরা, লেবু, আমড়া, কামরাঙ্গা ইত্যাদিতে প্রচুর ভিটামিন সি রয়েছে। এছাড়া আঙ্গুর, বাঁধাকপি, পেয়ারা, ব্রোকলি, টমেটো, বেক করা আলু, কাঁচা মরিচ, পালং শাক, মটরশুটি, পেঁপে, কমলা ও আনারসে ভিটামিন সি রয়েছে।

ভিটামিন সি এর অভাবে যা হয়

ভিটামিন সি এর অভাব হলে শরীর দ্রুত ক্লান্ত হয়ে পড়ে। একটু পরিশ্রমে শিশু অধিক ক্লান্তি অনুভব করে। ভিটামিন সি এর অভাবে হাঁটু ও গিঁটে ব্যথা শুরু হয়, দাঁত ও মাড়ি থেকে রক্ত পড়ে, ত্বক ও চুল নিস্তেজ হয়ে যায়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায়, হঠাৎ করে ওজন কমে যেতে পারে। এছাড়াও ভিটামিন সি এর অভাবে নাক থেকে রক্ত পড়ে, জ্বর, ঠাণ্ডা, সর্দি ইত্যাদি লেগেই থাকে।

অতিরিক্ত ভিটামিন সি খেলে যা হয়

প্রতিটা জিনিস পর্যাপ্ত পরিমাণে গ্রহণ করা উচিত। ভিটামিন সি অতিরিক্ত পরিমাণে গেলে হিতে বিপরীত হতে পারে। অতিরিক্ত ভিটামিন সি খেলে ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, তলপেটে ব্যথা হতে পারে।

Featured Image Source: YouTube

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগ থেকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসেন। নিয়মিত লিখছেন বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালের একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: Parenting

DON'T MISS