শিশুদের জন্য তরমুজের স্বাস্থ্য উপকারিতা


গ্রীষ্মকালের সুস্বাদু ফলগুলোর মধ্যে তরমুজ অন্যতম। তরমুজের স্বাস্থ্য উপকারিতার শেষ নেই। যেকোনো বয়সের মানুষ তরমুজ খেতে ভালোবাসে। শিশুদের জন্যও তরমুজ খুব উপকারী ফল। তরমুজ খেতে খুব মজা। কারণ এটি মিষ্টি স্বাদের ও রসালো ধরনের ফল।

শিশুর হাতে তরমুজ; Source: MomJunction

তরমুজ মানুষের মস্তিষ্ক থেকে শুরু করে পায়ের পাতা পর্যন্ত প্রতিটি সেলকে কার্যকরী করে তোলে। তরমুজে থাকে প্রচুর পরিমাণের পুষ্টি, ভিটামিন ও খনিজ লবণ। তরমুজে শতকরা বিরানব্বই ভাগ পানি থাকে এবং এতে কোনো প্রকার ক্ষতিকর চর্বি থাকে না। তরমুজে রয়েছে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম যা শরীরের ফ্লুইডস ও মিনারেলসের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করে।

তরমুজের পুষ্টিগুণ

তরমুজকে বলা হয় পুষ্টির শক্তিঘর। কারণ এতে রয়েছে অনেক পুষ্টি। তরমুজে রয়েছে লাইকোপেন যা হার্ট ভালো রাখে, ক্যান্সার প্রতিরোধ করে এবং হাড়ের সুস্থতায় কাজ করে। তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ। ভিটামিন এ চোখ ভালো রাখতে ও ত্বক সুস্থ রাখতে সহায়তা করে। তরমুজে রয়েছে ভিটামিন বি১, যা খাদ্যকে শক্তি সঞ্চারে সহায়তা করে। তরমুজে থাকা ভিটামিন বি৬ যেকোনো প্রদাহ নির্মূলে সাহায্য করে। তরমুজে রয়েছে ভিটামিন সি, যা ইমিউন সিস্টেম শক্তিশালী করতে সহায়তা করে এবং অসুস্থতা দূর করে।

তরমুজ নিয়ে প্রতিযোগিতা; Source: shutterstock.com

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজে রয়েছে ৯২-৯৫ গ্রাম পানি, ০.২ গ্রাম আঁশ, ০.৫ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম চর্বি,  ১৫-১৬ মিলিগ্রাম ক্যালরি।  এছাড়াও তরমুজে রয়েছে ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৭.৯ মিলিগ্রাম আয়রন, ৩.৫ মিলিগ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১২ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ০.২ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ০.২ মিলিগ্রাম নায়াসিন ইত্যাদি।

প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা তরমুজে রয়েছে ৯২-৯৫ গ্রাম পানি, ০.২ গ্রাম আঁশ, ০.৫ গ্রাম আমিষ, ০.২ গ্রাম চর্বি,  ১৫-১৬ মিলিগ্রাম ক্যালরি।  এছাড়াও তরমুজে রয়েছে ১০ মিলিগ্রাম ক্যালসিয়াম, ৭.৯ মিলিগ্রাম আয়রন, ৩.৫ মিলিগ্রাম কার্বোহাইড্রেট, ১২ মিলিগ্রাম ফসফরাস, ০.২ গ্রাম খনিজ পদার্থ, ০.২ মিলিগ্রাম নায়াসিন ইত্যাদি।

শিশুদের জন্য তরমুজের স্বাস্থ্য উপকারিতা

  • তরমুজ তাপের বিরুদ্ধে লড়াই করতে পারে।
  • তরমুজ শিশুদের হজম প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে।
  • অঙ্গপ্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
  • পানির চাহিদা পূরণ করে।
  • পেশীর দূর্বলতা দূর করতে সহায়তা করে।
  • শিশুর শরীরকে সতেজ ও হাইড্রেট রাখে।
  • স্বাস্থ্যবান ত্বক নিশ্চিত করে।
  • একে অ্যান্টিইনফ্লেমেটরি ফল বলা হয়।
  • শিশুদের শরীরের রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখে।

উপরোক্ত উপকারিতাগুলো ছাড়াও তরমুজের আরো বেশ কিছু উপকারিতা রয়েছে।

হার্ট ও হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে

তরমুজে থাকা পুষ্টি উপাদান হাড়ের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং হার্টের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তরমুজ ভাসডিলেসনের মাধ্যমে রক্তপ্রবাহ উন্নত করে এবং হার্টের সাথে সম্পর্কিত ফাংশনসমূহ উন্নত করে।

তরমুজ ও জুস; Source: NDTV Food

শুধু তাই নয় হাড়ের গঠন মজবুত ও শক্ত করতে সহায়তা করে তরমুজ। তরমুজে পটাশিয়াম রয়েছে বলে এটি হাড়ের ক্যালসিয়াম ধরে রাখতে সহায়তা করে এবং হাড়ের জয়েন্ট তথা জোড়া মজবুত রাখে।

ওজন কমাতে সাহায্য করে

বহু গুণের অধিকারী ফল তরমুজ। শিশুদের নানাবিধ উপকার করার পাশাপাশি বড়দের দারুণ উপকার করে এই ফল। তরমুজ ওজন কমাতে সাহায্য করে। তরমুজে শতকরা ৯২-৯৫ ভাগ পানি থাকায় শরীরের পানির চাহিদা পূরণ করে।

স্থূলকায় শিশু; Source: Daily Star

এতে কোনো খারাপ কোলেস্টেরল নেই। গবেষকরা তাই মনে করেন তরমুক ওজন কমাতে সাহায্য করে। তরমুজে রয়েছে উপকারী এমাইনো এসিড যা কিডনির জন্য ভালো। তাছাড়া তরমুজ যেহেতু পানিবহুল ফল, এটি খেলে পেট ভরে কিন্তু ক্যালরি জমা হয় না। যার ফলে ওজন বাড়ে না।

মূত্রবর্ধক ও কিডনির সুস্থতা

তরমুজে রয়েছে প্রচুর পানি যা মূত্রবর্ধনে সহায়তা করে। আর এর ফলে শরীরের বিষাক্ত পদার্থ বের হয়ে যায়। কিডনিতে পাথর হলে চিকিৎসকরা রোগীদের ডাবের পানি ও তরমুজ খাওয়ার পরামর্শ দেন। কারণ ডাবের পানির যত গুণাগুণ তা সব তরমুজে রয়েছে।

কিডনির সুস্থতায় তরমুজ উপকারী ভূমিকা রাখে। তরমুজ মূত্রথলী ও কিডনি থেকে সকল প্রকার বর্জ্য অপসারণ করে।

চোখের সুস্থতায়

চোখের সুস্থতায় কাজ করে তরমুজ। গ্রীষ্মকালে যারা পর্যাপ্ত পরিমাণে তরমুজ খায় তাদের চোখের স্বাস্থ্য ভালো থাকে। তরমুজে থাকা বিটাক্যারোটিন চোখের জন্য অত্যন্ত উপকারী।

চোখের স্বাস্থ্য; Source: FirstCry Parenting

বিটাক্যারোটিন রাতকানা রোগ প্রতিরোধেও কার্যকরী। তাই ছোট বড় সকলের রোজ তরমুজ খাওয়া উচিত।

পানিশূন্যতা দূর

যাদের শরীরে পানিশূন্যতা রয়েছে তাদের জন্য তরমুজ উপকারী। গ্রীষ্মকালে প্রচুর গরম পড়ে। এই সময় শরীর থেকে প্রচুর পানি ঘামের মাধ্যমে বেরিয়ে যায়। তাই বেশি করে তরমুজ খেলে পানিশূন্যতা দূর হবে এবং শরীর সতেজ থাকবে।

দুর্বলতা দূর

টেক্সাস এন্ড এম ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে তরমুজ দুর্বলতা দূর করতে সহায়তা করে। যারা দুর্বল তাদের জন্য তরমুজ প্রাকৃতিক ওষুধ হিসেবে কাজ করে। তরমুজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে সিট্রোলিন নামের অ্যামাইনো এসিড যা শরীর সতেজ রাখে এবং দুর্বলতা দূর করে।

রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখে

যাদের উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে তারা নিয়মিত তরমুজ খেতে পারেন। কারণ চিকিৎসকরা মনে করেন তরমুজ রক্তচাপ স্থিতিশীল রাখে। তরমুজ স্ট্রোকের ঝুঁকিও কমায়। তরমুজে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেশিয়াম প্রচুর পরিমাণে থাকে যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

অ্যাজমা প্রতিরোধ

যাদের হাঁপানি বা অ্যাজমা জনিত সমস্যা রয়েছে তারা রোজ তরমুজ খেতে পারেন। রোজ তরমুজ খেলে হাঁপানি প্রতিরোধ করা সম্ভব। তরমুজে থাকা ভিটামিন সি এই সমস্যা প্রতিরোধে সহায়তা করে। এছাড়া ফুসফুসের সুস্থতায়ও তরমুজ সাহায্য করে।

ক্যান্সার প্রতিরোধে সহায়ক

তরমুজে রয়েছে প্রচুর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। তরমুজ ফুসফুসের ক্যানসার, প্রোস্টেট ক্যানসার, কোলন ক্যানসার ও স্তন ক্যানসারের ঝুঁকি কমায়।

মা ও শিশুর তরমুজ খাওয়া; Source: Verywell Family

এছাড়া তরমুজ প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধে সহায়তা করে। কারণ এতে রয়েছে লাইকোপেন নামের একটি উপাদান, যা প্রোস্টেট ক্যানসার প্রতিরোধ করে।

ব্যথা নিরাময়

তরমুজ ব্যথা নিরাময়েও সাহায্য করে। এতে থাকা ভিটামিন সি শরীরের বিভিন্ন স্থানের ব্যথা দূর করতে সহায়তা করে এবং ত্বক, দাঁত ও মাংসপেশীর সুরক্ষায় কাজ করে।

অপকারিতা

তরমুজের যেমন উপকারিতা রয়েছে, তেমনি কিছু অপকারিতাও রয়েছে। একদিনে মাত্রাতিরিক্ত তরমুজ খেলে শিশুদের বমি, পেটে ব্যথা, ডায়রিয়া, হজমে সমস্যা হতে পারে। তাই মাত্রাতিরিক্ত তরমুজ খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।

Featured Image Source: Video Blocks

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগে অধ্যয়নরত । রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসে। নিয়মিত লিখে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: লাইফস্টাইল

DON'T MISS