একমাত্র সন্তানকে লালন পালন করার সময় যেসব বিষয় মাথায় রাখবেন


কয়েক বছর আগেও প্রায় প্রতিটি বাড়িতে দেখা যেত তিন থেকে চারটি সন্তান। সময়ের সাথে সাথে মানুষ যেমন আধুনিক হয়ে যাচ্ছে, তেমনি নগরায়নও বাড়ছে। নারী ও পুরুষ উভয়েই যে যার চাকরি কিংবা ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত থাকে। তাছাড়া আগের মানুষদের তুলনায় এখনকার মানুষেরা অনেকটা সচেতন। তারা জন্মনিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

বাবা মা ও তাদের একমাত্র সন্তান; Source: parenting.firstcry.com

বাংলাদেশ সরকার জন্ম নিয়ন্ত্রণে মানুষকে উৎসাহিত করার জন্য এবং জন্ম নিয়ন্ত্রণের বার্তা সবার কাছে পৌঁছে দেওয়ার জন্য যে স্লোগান দিয়েছেন তা হলো, ‘দুটি সন্তানের বেশি নয়, একটি হলে ভালো হয়’। উন্নত দেশেও প্রায় দম্পতি একটি মাত্র সন্তান নিয়ে থাকেন।

একমাত্র সন্তানকে লালন পালন করতে হয় অনেক আদর যত্নে। আদরের পাশাপাশি তাকে শৃঙ্খলাবোধ শেখাতে হবে। তাকে দিতে হবে স্বাধীনতা। একমাত্র সন্তানকে অতিরিক্ত শাসন করা চলবে না। তার সাথে বন্ধুর মতো আচরণ করতে হবে। জেনে নিন একমাত্র সন্তানকে লালন পালন করার কিছু টিপস সম্পর্কে।

সন্তানকে বন্ধুদের সাথে মিশতে দিন

অনেক বাবা মা আছেন যারা ভাবেন সন্তানকে অন্য কারো সাথে মিশতে দিলে, খেলতে দিলে সে খারাপ হয়ে যাবে। এমন ধারণা সঠিক নয়। আপনার একমাত্র সন্তানকে ঘরে বসিয়ে না রেখে বন্ধুদের সঙ্গে মিশতে দিন, খেলতে দিন। অনেক বন্ধুর সাথে খেলাধুলা করলে সে সামাজিক হতে শিখবে।

বন্ধুর সঙ্গে খেলা; Source: parenting.firstcry.com

অন্যথায় সে নিঃসঙ্গতার মধ্যে দিয়ে বড় হবে। সন্তানের বয়স যখন আঠারো মাস বা তার বেশি হবে তখন থেকে তাকে খেলার সাথী নির্বাচন করে দিন। শিশুরা খেলাধুলার মাধ্যমে তাদের সৃজনশীলতার বিকাশ ঘটায়। নতুন করে অনেক কিছু জানতে ও বুঝতে শেখে।

ব্যক্তিগত কাজগুলো তাকেই করতে দিন

বাবা মায়ের একমাত্র সন্তানেরা যেন সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মগ্রহণ করে। তারা বাবা মায়ের খুব আদরের সন্তান থাকে। যার ফলে তারা কখনো ব্যক্তিগত কাজগুলো নিজে করতে চায় না। আপনার যদি একমাত্র সন্তান থাকে তাহলে আপনাকে অবশ্যই সন্তানকে শেখাতে হবে সে যেন তার ব্যক্তিগত কাজগুলো নিজ হাতে করে।

ব্রাশ করা; Source: parenting.firstcry.com

ব্রাশ করা, কাপড় ধোয়া, নিজেকে পরিপাটি রাখা, ইউনিফর্ম পরিষ্কার ও পরিপাটি রাখা ইত্যাদি। তাছাড়া আরো যেসব ঘরোয়া কাজ রয়েছে সেগুলো সম্পর্কেও সন্তানকে ধারণা দিন। নয়তো দিনকে দিন সন্তান অলস, অকর্মণ্য হয়ে যাবে। ছোট থেকে যদি আপনি তাকে ঘরোয়া কাজ ও ব্যক্তিগত কাজ সম্পর্কে ধারণা না দেন তাহলে বড় হয়েও সে এগুলো শিখবে না।

তাকে মাঝে মাঝে নিজের মতো থাকতে দিন

আপনার ঘর আলো করে যে সন্তান এসেছে সে নিশ্চয় আপনার জন্য আশীর্বাদ। আপনি তাকে অনেক ভালোবাসেন তাতে কোনো সন্দেহ নেই। তবে অনেক ভালোবাসেন বলে তাকে সারাক্ষণ চোখে চোখে রাখবেন এবং প্রতি মুহূর্তে আপনি তাকে জেরা করবেন, এমন যেন না হয়। আপনাকে মনে রাখতে হবে, সন্তানের নিজস্ব অভিমত আছে, তারও স্বাধীন মতো চলতে ইচ্ছে করে।

নিজের সঙ্গে একা; Source: parenting.firstcry.com

তাই মাঝে মাঝে তাকে তার নিজের মতো থাকতে দিন। তাকে মত প্রকাশের স্বাধীনতা দিন। তাকে নিজের মতো খেলতে দিন, গান শুনতে দিন, টেলিভিশন দেখতে দিন। ধীরে ধীরে সে যখন বড় হবে তখন তাকে একা একা পথ চলতে দিন। এভাবে তাকে তার মতো চলতে দিলে সে যদি কোনো দিন দেশের বাইরে উচ্চ শিক্ষার জন্য যায় কিংবা চাকরির জন্য যায়, সে সকল পরিবেশে সাহসের সাথে চলতে পারবে।

নিখুঁত কিংবা সেরা হওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ বন্ধ করুন

অনেক অভিভাবকরা চান তাদের সন্তান যেন সবকিছুতে সেরা হয়। কিন্তু তারা কখনো সন্তানের মেধা, সামর্থ্যের কথা চিন্তা করে না। এটি সন্তানের জন্য অনেক পীড়াদায়ক। আপনি যদি আপনার সন্তানকে অতিরিক্ত চাপ প্রয়োগ করেন তাহলে সে হতাশায় ভুগবে। যেহেতু আপনার মাত্র একটি সন্তান, তাই সন্তানকে নিঃস্বার্থভাবে বড় করে তুলুন।

বই হাতে শিশু; Source: parenting.firstcry.com

আপনার সন্তানকে পড়াশুনা ও অন্যান্য কাজে অতিরিক্ত মানসিক চাপ না দিয়ে বরং ভালো ফলাফল করার জন্য উৎসাহ প্রদান করুন। চাপের পরিবর্তে যদি সন্তানকে উৎসাহ ও অনুপ্রেরণা প্রদান করেন, তাহলে সে পড়াশুনায় আরো মনোযোগী হবে এবং তাকে ঘিরে আপনার যে চাওয়া রয়েছে তা বাস্তবায়নের প্রতি খেয়ালী হবে।

না মানে না

আপনার একমাত্র সন্তানকে আপনি সবকিছু কিনে দেবেন এটা স্বাভাবিক। তবে সন্তানকে কখনো কখনো না বলতে জানতে হয়। আপনি সন্তানকে যদি চাওয়া মাত্রই কিনে দেন তাহলে সে না পাওয়ার যে দুঃখ তা বুঝবে না। বাস্তবিক জীবনে চলার জন্য মাঝে মাঝে দুঃখ, ব্যথা সহ্য করতে হয়। নয়তো সন্তান কখনো বাস্তবিক জ্ঞান অর্জন করতে পারবে না।

তার সঙ্গী হিসেবে পোষা প্রাণী

কর্মজীবী বাবা মায়েরা দিনের অধিকাংশ সময় অফিসে কাটায়। বাসায় সন্তান একা থাকে। বাসায় একমাত্র সন্তান থাকলে সে মাঝে মাঝে খুব একাকীত্ব অনুভব করে। কারণ এখনকার পরিবারগুলো যৌথ নয়, একক পরিবার। আপনার সন্তানকে সুখী, সারাক্ষণ হাসিখুশি রাখতে হলে তার জন্য একটি পোষা প্রাণী কিনে আনুন।

পোষাপ্রাণীর সাথে সময় কাটানো; Source: parenting.firstcry.com

হতে পারে বিড়াল, কুকুর ছানা কিংবা ময়না পাখি। বাসায় পোষা প্রাণী থাকলে সে খুব আনন্দে থাকবে, পোষা প্রাণীর সাথে গল্প করবে। সে কখনো একাকীত্ব অনুভব করবে না।

কঠিন ও প্রতিকূল সময়েও কীভাবে মেজাজ ঠিক রাখতে হয়

গবেষণা বলে পরিবারের বড় ও একমাত্র সন্তানেরা পড়াশুনায় ভালো হয়। তারা সর্বদা নিজেকে ভালো অবস্থানে দেখতে চায়। কখনো যদি বিদ্যালয়ের শিক্ষকের কাছ থেকে বকা শোনে, পরীক্ষার ফলাফল খারাপ হয় তাহলে তা তারা সহ্য করতে পারে না।

শিশুকে সান্ত্বনা প্রদান; Source: parenting.firstcry.com

মানসিক ভাবে ভেঙ্গে পড়ে। অভিভাবক হিসেবে আপনি তাকে সান্তনা দিন এবং তাকে শক্তিশালী হওয়ার উৎসাহ দিন।

Featured Image Source: Parents Magazine

Rikta Richi

রিক্তা রিচির জন্ম ৮ ই নভেম্বর ১৯৯৫ সালে বি বাড়ীয়ার নবীনগর থানার নবীপুর গ্রামে। ছোট থেকে ঢাকায় বসবাস। ২০১০ সালে মোহাম্মদপুর উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় থেকে এস এস সি এবং ২০১২ সালে বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ থেকে এইচ এস সি পাশ করে বর্তমানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হোম ইকোনোমিকস কলেজের “সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্ট্রাপ্রেনরশীপ” বিভাগে অধ্যয়নরত । রিক্তা রিচি কবিতা লিখতে ভালবাসে। নিয়মিত লিখে যাচ্ছে বাংলাদেশের বিভিন্ন ম্যাগাজিন, পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিকে এবং ভারতের বিভিন্ন ম্যাগাজিন ও পত্রিকায়। ২০১৬ সালে একুশে বইমেলায় প্রকাশিত হয় তার প্রথম কাব্যগ্রন্থ “যে চলে যাবার সে যাবেই”। ২০১৯ সালের অমর একুশে গ্রন্থমেলায় প্রকাশিত হয় তার দ্বিতীয় কাব্যগ্রন্থ "বাতাসের বাঁশিতে মেঘের নূপুর"।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: Parenting

DON'T MISS