শিশুর শারীরিক ও মানসিক বৃদ্ধির জন্য ১০টি ব্যায়াম


ব্যায়াম মানুষের শারীরিক ও মানসিক বিকাশের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। শিশুদের শারীরিক গঠন ঠিক রাখতে এটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। তাই ছোটবেলা থেকেই নানা রকম ব্যায়াম করা উচিত। ব্যায়ামের মাধ্যমে শিশু সতেজ অনুভব করে। তাছাড়া এটি শিশুর হাড় গঠনে এবং সুস্থ স্বাভাবিক মানসিক বিকাশে সহায়তা করে। খুব স্বাভাবিকভাবেই শিশুর ব্যায়ামের কোনটাই বেশি ভারী হবে না। কারণ এসময় শিশুর শরীর খুব নরম ও সংবেদনশীল থাকে।

তাহলে কোনধরনের ব্যায়াম এইসময় করাতে পারেন আপনার সন্তানকে? কোন ব্যায়াম কেন করা প্রয়োজন? আজকে আমরা এধরনের কিছু ব্যায়াম সম্পর্কে আলোচনা করবো।

ব্যায়াম শিশুকে সুস্থ রাখতে সহায়তা করে; Source: Yoga In My School

১. বাচ্চাদের শক্তিশালী দক্ষতা বিকাশের জন্য ব্যায়াম

ক. শিশুর যোগব্যায়াম

মেডিটেশন বা যোগ ব্যায়াম বড়দের মতো ছোটদেরও দেয় সতেজ নিঃশ্বাস, মানসিক ও শারীরিক শক্তি। বিশেষজ্ঞদের মতে, কিছু কিছু যোগব্যায়াম শিশুদের জন্য খুবই উপকারী। দিনের শুরুটা যদি হয় ব্যায়াম দিয়ে তাহলে সারাদিন তারা অনেক এনার্জেটিক অনুভব করবে। জন্মোত্তর থেরাপিউটিক ও যোগ ব্যায়ামের শিক্ষক Claire Koepke বলেন, “যোগব্যায়াম শিশুর কোষ্ঠকাঠিন্য ও গ্যাসকে উপশম করতে সাহায্য করে। এই সহজ কিন্তু কার্যকরী ব্যায়ামটি আপনার ও আপনার শিশুর ঘুম বাড়িয়ে দিতে পারে।”

খ. হ্যাপি বেবি পোজ

এই পোজটি কিছু শিশু নিজ থেকেই করতে পারে। যদিও শিশু খেলাচ্ছলে এটা শেখে কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এটি ব্যায়ামেরই একটা অংশ। শিশুকে ব্যায়ামটি শেখাতে হলে প্রথমেই তাকে বিছানায় শুইয়ে দিন। এরপর দু’পা ধীরে ধীরে সামনের দিকে তুলুন। পা দুটো অর্ধেক ভাঁজ অবস্থায় তুলে যতটা সম্ভব প্রসারিত করুন। এরপর শিশুর হাত দিয়ে পায়ের গোড়ালি দুটো ধরিয়ে দিন।

খেয়াল রাখবেন শিশু ব্যথা পাচ্ছে কিনা অথবা কোনো কষ্ট হচ্ছে কিনা। যদি এই ধরনের কোনো সমস্যা হয় তাহলে পুরো ব্যায়ামটা একদিনে না করে ধীরে ধীরে করুন।

হ্যাপি বেবি পোজ; Source: belladivadance.com

গ. ডাউনওয়ার্ড ফেসিং ডগ পোজ

এটি ব্যায়ামের একটি সহজ পজিশন। শিশুকে মেঝেতে উল্টো পিঠে শুইয়ে দিন। এরপর ধীরে ধীরে পেটের দিকটা ওপরে তুলতে থাকুন। অবশ্যই ২ হাতে এবং ২ পায়ের ওপর ভর দিয়ে থাকবেন। অনেকটা উল্টো ভি “V” শেপের মতো দেখাবে। তবে মনে রাখবেন যে, শিশু যখন হামাগুড়ি দিতে শুরু করে তখন অন্তত ৬-১০ মাস বয়স পর্যন্ত শিশুর এটি করার শক্তি থাকবে না। Koepke বলেন, “এটি করার জন্য শিশুকে উৎসাহিত করার সর্বোত্তম উপায় হলো তাদের সামনে এটি অনুশীলন করা। এই পজিশন নমনীয়তা এবং চলার দক্ষতা শেখাতে সহায়তা করে।”

ডাউনওয়াড ফেসিং ডগ পোজ; Source: 123RF.com

ঘ. বাটারফ্লাই টুইস্ট পোজ

এই ব্যায়ামের জন্য শিশুকে সোজা করে সুইয়ে দিন। পিঠের ওপর ভর করে পা দুটো সোজা করে ওপরের দিকে তুলুন। শিশুর দু’পায়ের তল মিলিয়ে রাখুন যাতে একটি প্রজাপতির আকৃতি তৈরি করে। আপনার অন্য হাতটি শিশুর বুকের ওপর হালকাভাবে রাখুন এবং তার সাথে নরম স্বরে কথা বলুন। Koepke সহ বেশ কিছু ইয়োগিস্ট বলেন, “এই পোজ শিশুর শিথিল এবং গভীর ঘুমের জন্য উপকারী।”

২. শিশুর গলা এবং পেটের ব্যায়াম

ক. টাম্মি টাইম পোজ

এই পোজটি সবসময় শিশুর ব্যায়ামের তালিকার শীর্ষে থাকে। কারণ এটি শিশুর মাথা ও ঘাড়ের পেশী শক্তিশালী করে এবং চলার দক্ষতা বাড়াতে সহায়তা করে।

টাম্মি টাইম পোজ; Source: Tiny Love

মেঝেতে একটি মাদুর বিছিয়ে তার উপর শিশুকে উপুড় করে সুইয়ে দিন। তারপর গাত দুটো সামনের দিকে প্রশস্ত করে মাথা ও ঘাড় ধীরে ধীরে উপরের দিকে তুলুন। অনেকটা এল শেপের মতো দেখাবে। এটি শিশুর ঘাড়ের পেশী মজবুত করতে সাহায্য করে।

খ. পিনাট বল পোজ

এই ব্যায়ামে একটি বাদাম আকৃতির বল ব্যবহার করা হয়। এটি শিশুর খেলার একটি অংশ। প্রথমে একটি বাদাম আকৃতির বলে শিশুর দু’হাত সামনে দিয়ে বুকটা বলের ওপর ছেড়ে দিন। যেন বুক এবং পেটে ভর করে শিশু খেলতে পারে। এটি তাদের গলা এবং মাথা ওপর করে রাখতে সহায়তা করবে।

পিনাট বল পোজ; Source: Spectrum Clarity Melbourne

৩. শিশুর হামাগুড়িতে সাহায্য করার ব্যায়াম

ক. হাতের ব্যায়াম

শিশু হামাগুড়ি শিখতে হলে তাকে হাত খোলা রাখার ব্যাপারটা বুঝতে হবে৷ তাই শিশু হামাগুড়ি দেওয়ার আগে তার হাতে কোনো খেলনা দেওয়ার চেষ্টা করুন। সে বস্তুটি নিওয়ার সময় হাত এবং আঙ্গুলের প্রসারিত করে ধারণা পেয়ে যাবে। আবার আপনি চাইলে শিশুর হাত ম্যাসেজ করতে পারেন। যদিও এটি কোনো ব্যায়ামের মধ্যে পড়ে না, তবে হাত খুলতে পারা হামাগুড়ির জন্য অত্যন্ত প্রয়োজনীয়। এ প্রসঙ্গে Johnson বলেছেন, “সফল হওয়ার জন্য এবং হামাগুড়ি দেয়ার ইচ্ছা বাড়ানোর জন্য, শিশুদের একটি উপযুক্ত হাত থাকতে হবে।”

হাতের ব্যায়াম; Source: Stockfresh

খ. হাতের গ্রিপ শেখানো

শিশু যাতে বিভিন্ন ছোট ছোট জিনিস হাতের মুঠোয় শক্ত করে ধরতে পারে তার জন্য শিশুকে গ্রিপ শেখানোর ব্যায়াম করানো যেতে পারে। এতে শিশু তার হাতের কাজ খুব ভালোভাবে শিখতে পারবে। এর জন্য শিশুকে বিছানায় শুইয়ে দিন, আপনার আঙুল শিশুর হাতের মুঠোয় রাখুন। শিশু যাতে আঙ্গুল হাতের মুঠোয় ভালোভাবে রাখতে পারে তারজন্য অন্য আঙুলগুলো দিয়ে শিশুর হাতের মুঠো চেপে রাখুন। এভাবে কিছুক্ষণ রেখে ছেড়ে দিন। এতে সে সহজেই কিছুদিনের মধ্যে এটি শিখে যাবে। দুই হাত দিয়ে দিনে পাঁচবার গ্রিপ ধরিয়ে নিতে শিশুকে সাহায্য করুন।

গ. ক্রাউলিং

এই ব্যায়ামের জন্য একটি টাওয়েলকে কয়েকটি ভাঁজ করে নিন। তারপর শিশুর দু’হাত টাওয়েলের উপর দিয়ে সামনের দিকে রাখুন যাতে শিশুর বুক টাওয়েলের ওপরে থাকে, তবে মাটি থেকে দূরে থাকে। টাওয়েলটি এমনভাবে ধরুন যেন সেটি শিশুর বুক তুলে ধরে এবং তার হাত ও পা মাটির দিকে ঝুঁকে পড়ে। এটি শিশুকে হামাগুড়ি দিতে সহায়তা করে।

ঘ. হাঁটার ব্যায়াম

সাধারণত ৯ থেকে ১৮ মাসের মধ্যে শিশুরা হাঁটা শুরু করে। আপনার বাচ্চা যদি খুব দ্রুত হাঁটে তবে তাকে নিরুৎসাহিত করবেন না। হাঁটা একটি বড় ধরনের ব্যায়াম। এটা শক্তি এবং ভারসাম্য বিকাশের দক্ষতা অর্জনে সহায়তা করে। তাই একবার এই দক্ষতা অর্জন করতে পারলে, সে চলতেই থাকবে। তাই শিশুর হাঁটার সময় তাকে সাহায্য করুন।

হাঁটার ব্যায়াম; Source: 123RF.com

অতএব শিশুকে সুস্থ ও সুন্দর রাখতে এবং শক্তিশালীভাবে গড়ে তুলতে ব্যায়ামের কোনো বিকল্প নেই৷ তাই আপনার সন্তানকে তার বয়স এবং চাহিদা অনুযায়ী নিয়মিত ব্যায়াম করতে উৎসাহিত করুন।

Featured Image Source: Loving Moments By Leading Lady

Iffat Jahan

আমি ইফফাত জাহান। জন্ম ১৯৯৭ সালে চট্টগ্রামের একটি মফস্বল শহরে। আমার ধারণা চট্টগ্রাম বাংলাদেশের সবথেকে সুন্দর শহর। ছোটবেলা থেকেই বই পড়া আর ছবি আঁকার শখ ছিলো। বাসার দেয়ালে ছবি এঁকে ঝুলানো আর মনের মাঝে যা আসে তাই ডাইরিতে লিখাই ছিলো পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম। যখন একটু আধটু লিখতে পারি তখন খালামনি আমাকে একটি ডায়েরি উপহার দিয়েছিলেন। সেই সুবাদে এখনো লিখালিখি আমার প্রিয়। প্রতিটি মানুষের ভেতর কিছু সুপ্ত প্রতিভা থাকে। প্রতিভা বিকাশিত করার জন্য নির্দিষ্ট পথটি খুঁজে নিতে হয়। যার যেই কাজে প্রতিভা বেশি সে সেই বিষয়ে ভীষণ রকম ভালো পারফর্ম করে। সবশেষে, সমাজের মানুষগুলোর জন্য কিছু করার খুব ইচ্ছে। মহান আল্লাহ যদি সামর্থ দেয় ইনশাল্লাহ্ একদিন আমিও গরিব দুঃখীদের জন্য কিছু করতে পারবো।

Comments 0

Your email address will not be published. Required fields are marked *

You may also like

More From: লাইফস্টাইল

DON'T MISS